Breaking News
Home / TRENDING / ভাই বলছেন, দিদি শুনছেন!

ভাই বলছেন, দিদি শুনছেন!

তরুণ সেন:

সমস্যায় ভুগছেন? যেকোন সমস্যা, দিদিকে বলুন। সব সমস্যার এক সমাধান, দিদি, দিদি, দিদি! (মনে পড়ে গেল সব সমস্যার সমাধানী মলমটির কথা। দিদি অবশ্য মলমই লাগানোর চেষ্টা করছেন পঞ্চায়েতের ক্ষতে, লোকসভার ক্ষতে!) পোড়া পশ্চিমবঙ্গে কিছু সুমুখ যেমন আছেন, তেমনি দুর্মুখও আছেন। তাঁরাই বেয়াড়া রকমের প্রশ্ন তুলেছেন, দিদিকেই যদি বলব, বিধায়করা আছেন কেন? সাংসদ আছেন কেন? পঞ্চায়েত পিতা-মাতা, পুরপিতা-মাতারা আছেন কেন? কিছু প্রশ্ন থাকে, যার উত্তর দেওয়া যায় না। মানে, চলে না আর কি! দিতে গেলেই আঙুল ওঠে নিজের দিকে। জননেতা বা নেত্রীর মৌরসীতে কি আর সেটা সহ্য হয়! বামপন্থীদের টেকনিকে ক্যাডারকুল জনসংযোগে নেমেছেন, ভোটারদের ঘরে ভাত খাচ্ছেন, থাকছেন। নাড়ির সঙ্গে মিশতে যাচ্ছেন। অনভ্যাসের ফোঁটা প্রশ্ন তুললেই চড় চড় করছে! সবাই বুঝছে, বাবু মাঝিব্যাটাকে ‘মাঝি ভাই, মাঝি ভাই’ বলে গালাগালি ছেড়ে গলাগলি করতে শুরু করেছেন নৌকা ডুবির ভয়ে! সে করুন গিয়ে, ‘মরা মরা’ করতে করতে একদিন ‘রাম রাম’ হবে—এই আশায় আসুন আশাবাদী হই! কিন্তু এই জনসংযোগের এই লস্যিতে নুন পড়ছে দলের বিক্ষুব্ধ যখন দিদিকে অন্দর কা বাত বলে ফেলছেন, দাও ভাইকে কেষ্ট দাওয়াই! ফলে, দুর্গাপুরের তৃণমূলকর্মী টোটন দাস মুখ খুলে মুখফাটানো মার খেয়ে গেলেন কদিন আগে। তাই ভয় আছে, মানে, দিদিকে বলুন, কিন্তু সাবধানে।

জানা গেছে, ‘দিদিকে বলো’ প্রশান্তকিশোরের শান্ত মাথা থেকেই নাকি উদ্ভূত হয়েছে। গুজবে শোনা গেছে, প্রশান্তকিশোরকে মাস্টারমশাই হিসেবে পেতে খরচ হয়েছে নাকি, পাঁচশো কোটি। বেশ ক’বছর আগে একটা বাংলা ছবি হয়েছিল, ‘এম এল এ ফাটাকেষ্ট’। আমার মতো ভোটার সাধারণের অনেকেই হয়তো ছবিটা দেখেছেন। সেখানে একদিনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন ছবির নায়ক। সাধারণ মানুষ তাঁদের অভিযোগ চিরকুটে লিখে ড্রপ বাক্সে ফেলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছিল। প্রশান্তকিশোর উদ্ভাবিত ‘দিদিকে বলো’ কাণ্ডটি সেই টেকনিকেরই হেরফের। চিরকুটের জায়গায় ফোন। দুর্মুখের কথা হচ্ছে, পাঁচশো কোটি দিয়ে এই টোকাই জিনিস! দামে পোষালো কি? ইউটিউব থেকে ছবিটা বিনিপয়সায় দেখে নিলেই ল্যাঠা চুকে যেত বাপু। এর জন্য আবার…হেঁ হেঁ হেঁ…

শোনা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই নাকি প্রায় লাখ চারেকের বেশি মানুষ ফোন করে ফেলেছেন, সমস্যার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ দিদিও তাঁদের সমস্যার কথা জেনে গেছেন। বেশ। জনসংযোগের এই পরিসংখ্যান তো পেলাম, কিন্তু সমস্যার সমাধান কারও কি হল? সে পরিসংখ্যান অবশ্য পাওয়া যায়নি। আশা করি, বিধানসভা ভোটের আগে নিশ্চয়ই জানা যাবে। চাষাদের ঐটুকুই তো সম্বল! যাক গে যাক। দিদি কিন্তু শুনছেন, আপনি শোনাচ্ছেন তো? আর কিছু না হোক দুঃখের কথা শোনেই বা ক’জন!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *