Breaking News
Home / TRENDING / মধ্যরাতের রূপকথা, শীতের শহরে নাম না জানা কুমারী ‘মা’

মধ্যরাতের রূপকথা, শীতের শহরে নাম না জানা কুমারী ‘মা’

 পার্থসারথি পাণ্ডা:

‘তার’ নাম আমি জানি না। শুধু জানি, শীতের এক সন্ধ্যায় তার সাথে দেখা হয়েছিল। হ্যাঁ, জাস্ট ওই একদিনই। তাও হত না, যদি না সাডেনলি সেদিন আলির পাল্লায় পড়তাম।

আলি আমার বন্ধু। মফঃস্বলের ছাপোষা মানুষ। ডালহৌসির একটা অফিসে নাইট গার্ডের কাজ করে। স্যালারি সামান্যই। কিন্তু তার গন্ডাখানেক ছেলেমেয়ের তো সেকথা বোঝার দায় নেই। তারা বায়না করে। সোয়েটার চাই, ফ্যাশনেবল জ্যাকেট চাই। আলি বোঝে, এ বায়না না-মিটিয়ে তার নিস্তার নেই।

পাবলিক পরম্পরায় আলি জানে শীতের শেষে এ-শহরে আসা ভুটিয়াদের পড়ে ঘরে ফেরার তাড়া। এ সময় দরাদরি করে নিতে পারলে শীতের পোশাকপত্তর বেশ সস্তায় পাওয়া যায়। সুতরাং, ডিউটি ম্যানেজ করে সেদিন সন্ধ্যায় আলি বেরোয় রাস্তায়। সঙ্গে জুটি আমি।

সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের রেলিং আর ফুটপাথের স্পেশ মিলিয়ে কয়েক স্কোয়্যারফুটের স্টল। দেওয়াল আর মেঝের চারপাশে থরে থরে সাজানো চাদর, সোয়েটার, কার্ডিগান, জ্যাকেট, মাফলার। তারই মাঝখানে কুড়ি-বাইশের মেয়েটি দাঁড়িয়ে। মুখের হাসি মিষ্টি হলে হবে কি, মনটা মোটেই নরম না। নইলে বাচ্চাদের সোয়েটারগুলোর জন্য আলি যেভাবে প্রায় কেঁদেকেটে ঝুলোঝুলি করল, অন্য কেউ হলে দুটো পয়সা না-কমিয়ে পারত না। কিন্তু মেয়েটা স্ট্রেট ‘ফিক্সড রেট’ বোর্ড দেখিয়ে প্রায় ভাগিয়ে দিল। সেই নভেম্বর থেকে এখানে পড়ে থাকা, হোটেল ভাড়া, খাওয়া খরচ সব মিলিয়ে নাকি কম করা যায় না। তাছাড়া এখানে ‘ফিক্সড’ মানে, ‘ফিক্সড’ই। কম দামে বেচলে, লোকজানাজানি হলে, ফাইন গুণতে হবে তাকেই। শুনে হতাশ আলির মন খারাপ হয়।

তারপর রাত বাড়ে।

রাত তখন প্রায় এগারোটা। বিবি গাঙ্গুলি স্টিট দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছি। রাস্তা প্রায় ফাঁকা। কেবল কিছু ভিখারি আর ভবঘুরে শেডের নীচের ঠাণ্ডায় কুঁকড়ে এখানে ওখানে শুয়ে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাতই থামতে হল। একটি মেয়ে। আধো আলো-অন্ধকার ফুটপাথে দাঁড়িয়ে একটা বড় ব্যাগ থেকে কী যেন বার করছে। কৌতূহল বাড়ে। একটু এগোই। দেখি চাদরের মতো কিছু একটা বার করে এক ঘুমন্ত ভিখারির গায়ে চাপিয়ে দেয় সে। হঠাৎ পাওয়া উষ্ণতায় ভিখারিটা ধড়মড় করে জেগে ওঠে। আর কৃতজ্ঞতায় তার দু’চোখ যেন ভরে ওঠে। আবার একটু কাছে এগোই। এবার দেখতে পাই মেয়েটির মুখ। এ-তো সেই স্টলের মেয়েটি! তার মুখে এখন মিষ্টি হাসির সঙ্গে প্রসন্নতার মাখামাখি। এখন আর কোন কিছুতেই যেন তার যায় আসে না। দেখতে পাই, কুয়াশামাখা স্ট্রিটলাইটের ঝাপসা আলো মেখে কলকাতার যিশুদের গায়ে আদর জড়িয়ে দিতে দিতে কুমারী মা মেরি যেন এগিয়ে চলেছেন আলোর দিকে।

আমি তাকে, উঁহু, ‘তাঁকে’ দেখি। সব হারানো ভিখারিটা দেখে, সব ছেড়ে আসা ভবঘুরেটা দেখে। আসলে, আমরা দেখি…কোনদিন ‘তাঁর’ নাম জানতে পারি না…জানা হয় না!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *