নীল রায়।
যেদিন মিল্লি আল আমিন কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে! ঘটনাচক্রে তার পরদিনই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পূর্বে “দিদিকে বলো” কর্মসূচিতে সামিল হচ্ছেন রাজ্য শিক্ষামন্ত্রী। বৃহস্পতিবার ১২০ নম্বর ওয়ার্ডের বেহালা পূর্বের বাহাদুর রোডের তৃণমূল কার্যালয় থেকে এই কর্মসূচিতে সামিল হবেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। তাঁর সঙ্গে হাজির হতে বেহালা পূর্বের অন্তর্গত ১১ টি ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেহালা পূর্বে দীর্ঘদিন ধরে বিধায়ক হিসেবে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি। সেই কারণেই তাঁকে বেহালা পূর্বের দায়িত্ব দিয়েছে দল। কিন্তু এক্ষেত্রে রাজনৈতিক মহল, দেখছে সম্পূর্ণ পৃথক অঙ্ক। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলীয় নির্দেশ তো বটেই! বেহালা পূর্বে “দিদিকে বলো” কর্মসূচি পালন করে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বার্তা দেওয়াই লক্ষ্য পার্থর। প্রাক্তন মেয়রের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। তা মোটেই ভালো চোখে দেখেননি পার্থ। নিজের ক্ষোভ এ বিষয়ে গোপন করেননি তিনি। এবার তাই রাজনৈতিকভাবেই শোভনকে দল থেকে বিচ্ছিন্ন করার বার্তা দেবেন পার্থ, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত মাসের ২৩ তারিখে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের গোলপার্কের বাসভবনে যান তৃণমূল মহাসচিব। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে গিয়ে মেয়র ও মন্ত্রী পদে শোভনকে আবারও ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। সঙ্গে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অধ্যাপক সংগঠনে ফিরে কাজ করার আশ্বাস দেন। কিন্তু বৈঠক ছেড়ে বেরোনোর সময় সংবাদমাধ্যমের গাড়ি দেখে বেজায় ক্ষেপে যান পার্থ। শোভন-বৈশাখী শুধু তাঁর অনুরোধই ফিরিয়ে দেননি। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সংবাদমাধ্যমের কাছে, যা একেবারেই নাপসন্দ শিক্ষামন্ত্রীর। তাই শোভন-বৈশাখী জোড়াফুল শিবিরে নো-এন্ট্রির বোর্ড রাজনৈতিকভাবেই ঝুলিয়ে দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন তৃণমূল মহাসচিব। আর তার সূচনা হচ্ছে শোভন চট্টোপাধ্যায় বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পূর্ব থেকেই।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news