নীল রায়।
তৃণমূল নেতাদের জনসংযোগের অভাব দেখে দিদি ভাড়া করে নিয়ে এসেছেন প্রশান্ত কিশোরকে। তাঁর কৌশল ‘দিদিকে বলো’ নিয়েই তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা পৌঁছে যাচ্ছেন জনতার দরবারে। উদ্দেশ্য একটাই, জনসংযোগ! তবে উৎসবের মরসুমকে কাজে লাগিয়ে দলের শীর্ষ নেতা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha chatterji) নিজের মতো করে জনসংযোগ করলেন বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রে। প্রতি বছরের মতো এবারও বুধবার বেহালা শরৎ সদনে বসেছিল তৃণমূল (TMC) বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিজয়া সম্মিলনী। যেখানে এলাকার কালীপুজো কমিটিগুলোকে চাঁদা দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছিলেন তিনি।
এদিন বেলা ১১টা নাগাদ একে একে কালীপুজো কমিটিগুলি আসা শুরু হয় বেহালা শরৎ সদন। চাঁদা দেওয়া শুরু হতেই চমক! এবার আর শুধু চাঁদাই দেননি পার্থ। চাঁদার সঙ্গে এক হাঁড়ি রসগোল্লাও দিলেন ক্লাবগুলোকে। সঙ্গে তৃণমূল কর্মীরা ক্লাবের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিলেন, “পার্থদা মিষ্টি পাঠিয়েছেন ক্লাবে। এলাকার সবাইকে জানাতে হবে!” হাসিমুখেই স্থানীয় বিধায়কের দেওয়া এক হাড়ি মিষ্টি নিয়ে ফিরলেন কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সাল থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক। সেবার বেহালার ভূমিপুত্র সিপিএম (CPM) নেতা নির্মল মুখোপাধ্যায়কে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য বিধানসভার সদস্য হন তিনি। যতবার বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে ভোট মাধুকরী হয়েছেন তিনি। ততবারই রাজনৈতিক উত্তরণ হয়েছে তাঁর। ২০০১ সালে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে বিধায়ক হন, ২০০৬ সালে বিরোধী দলনেতা ও ২০১১ সালে এই আসনে নির্বাচিত হয়েই রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী হন। মাঝে কিছুদিন রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রীর থাকলেও, আবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর হাতে তুলে দেন শিক্ষা দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক হয়েই তৃণমূল মহাসচিব হওয়ার সুযোগ পান তিনি।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের উদ্যোগেই তাঁর ম্যানটনের অফিসের কাছে একটি কালী পুজো শুরু হয়েছে। দুর্গাপুজোয় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম যুক্ত নাকতলা উদয়ন সংঘের সঙ্গে। তাই বেহালায় গুঞ্জন ছিল এলাকার বিধায়ক হলেও, তাঁর নিজের বাড়ি নাকতলাকেই প্রাধান্য দেন তিনি। এমন সমালোচনা টের পেয়ে ২০১৪ সালে ম্যানটনে বিরাট কালী পুজো শুরু করেন তিনি। এবছর সেই পুজোর উদ্বোধন করবেন তৃণমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
গত ১৮ বছরের বেশি সময় বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক হলেও, ইদানিং তাঁর জনসংযোগ ভাঁটা পড়েছে বলেই মত এলাকাবাসীর। তাই গত বছর থেকে নিজের উদ্যোগে এলাকার সব পুজো কমিটিগুলিকে চাঁদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পার্থ। এবার সেই পুজোর চাঁদা সঙ্গে সংযোজন হয়েছে এক হাঁড়ি মিষ্টির!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news