চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ দিবসে চোখে পড়ল পারিবারিক রাজনীতির সংস্কৃতি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে মাসখানেক আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘোষণা করে দিয়েছিলেন ধর্মতলায় বৃহৎ জনসভা হবে না এবার। বদলে আধুনিকতার পথে হেঁটে ভার্চুয়াল বক্তৃতার মাধ্যমে প্রত্যেকটি পথে পৌঁছে যাবেন তিনি। মুখে আধুনিকতার কথা বললেও, তৃণমূল রাজনীতির ঘরানায় পরিবারতন্ত্র যে জাঁকিয়ে বসেছে তা দেখা গেল ভার্চুয়াল সভায়। মঙ্গলবার তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের অডিটরিয়ামে বসেছিল ভার্চুয়াল জনসভার প্রকৃত আসর।
এই ডিজিটাল সভায় হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এছাড়া কেবলমাত্র ডাকা হয়েছিল তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সভাপতি তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সীকে। ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে দলের এই কৌশল নজর টেনেছে শীর্ষ থেকে নিচু তলার নেতাকর্মীদের। কর্মী মহলের ধারণা ছিল, ভার্চুয়াল জনসভায় দলের সব নেতাদের দেখা না গেলেও, বাছাই করা শীর্ষ নেতাদের ভার্চুয়াল শহীদ দিবসের মঞ্চে হাজির থাকার নির্দেশ দেবেন তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের অজুহাতে বাদ দেওয়া হল প্রায় সবাইকেই।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতা বলে বর্তমানে পরিচিত রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi) ছাড়াও, দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এই দুজনের কাউকেই তলব করেনি কালীঘাট। সূত্রের খবর, দলের ভার্চুয়াল সভায় ডাক না পেয়ে খানিকটা বিমর্ষ হয়ে পড়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহু যুদ্ধের সৈনিক পার্থ। ২০০৬-১১ সালের পরিবর্তনের রাজনৈতিক যুদ্ধে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম সৈনিক ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। সূত্রের খবর, সোমবার রাত পর্যন্ত তিনি আশায় ছিলেন। সেই কারণে বেহালা পশ্চিমের নিজের বিধায়ক কার্যালয়ে কর্মসূচি আয়োজনের কোনও নির্দেশ দেন নি। কিন্তু, ওইদিন অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে ডাক আসবে না বুঝতে পেরেই শেষে ম্যানটনের বিধায়ক কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ নির্মাণের নির্দেশ দেন তিনি। শহীদ দিবসের দিন সকালে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউজের সামনের শহীদ মঞ্চে মাল্যদান করেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় চলে আসেন নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে। শহীদ দিবসের দুটি পৃথক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েই দুপুর দুটোর কিছু আগে পৌঁছে যান ম্যানটনের বিধায়ক কার্যালয়ে। সেখানেই বিষন্ন মুখেই দলনেত্রীর বক্তৃতা শোনেন তিনি।
এছাড়া প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম ধর্মতলা, পার্কস্ট্রিট ও চেতলা এলাকায় আয়োজিত শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তারও ডাক আসেনি কালীঘাট থেকে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, সৌগত রায়, অরূপ বিশ্বাস, মদন মিত্র সহ দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেই ডাকা হয়নি কালীঘাটের ভার্চুয়াল সভায়। ডাকা হয়নি পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই তৃণমূলের অন্দরে চলছে উত্তেজনার পরিস্থিতি। নন্দীগ্রামের বিধায়ককে দলে ধরে রাখতে জঙ্গলমহলের জেলাগুলির দায়িত্ব এককভাবে তাঁর হাতে ছেড়ে দিয়েছেন মমতা। তার পরে ভাবা হয়েছিল, এই নেতাকে গুরুত্ব দিতে আরো বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু ভার্চুয়াল সভায় নন্দীগ্রাম আন্দোলনের এই যোদ্ধাকে অনুপস্থিত দেখে তৃণমূলের অন্দরের রাজনীতির সমীকরণের হিসেবে নিকেশ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ভার্চুয়াল সভা থেকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবার বার্তা দিতে চেয়েছেন যে তৃণমূলে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলাবে না। পিসি-ভাইপো জুটি অসন্তুষ্ট হলেই যে কোনও স্তরের নেতার ওপর নেমে আসতে পারে খাঁড়ার ঘা। সঙ্গে বোঝানো হয়েছে, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ অভিষেকই, অন্য কেউ নন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news