নীল রায়।
শিক্ষামন্ত্রী ও রাজ্যপালের মধ্যে দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছেই। রবিবার রাতে তার আভাস আরও একবার মিলল শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha chatterji) ফেসবুকের একটি পোস্টে। তিনি লেখেন, “সংবাদমাধ্যমে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সম্পর্কে রাজ্যের সম্মানীয় রাজ্যপাল যে মন্তব্য করেছেন তা বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। যে সমস্ত শিক্ষাবিদরা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সময় দিয়ে ছাত্র তৈরীর কারিগর হিসেবে দেশ-বিদেশে সম্মানিত। তাদের সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য অযাচিত ও অভাবনীয়।”
সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, “উপাচার্যের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং এ ব্যাপারে সংবিধানের ক্ষমতার মধ্যে থেকে যা বলার সেটাই কাম্য আমি রাজ্যপালের মন্তব্যে গভীরভাবে মর্মাহত।” প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার এবিভিপির (ABVP) নবীনবরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur university) অতি বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের হাতে আক্রান্ত হন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় (Babul supriyo)। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা আটকে থাকার পর তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তারপরে একটি বিবৃতি জারি করে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের পক্ষ থেকে সেই কড়া বিবৃতিতে নাম ছিল দলের মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। সেই বিবৃতিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছে যান রাজ্যপাল।
পরদিনই সেই দাবি খণ্ডন করে রাজভবন জানায় সঠিক কথা বলছেন না শিক্ষামন্ত্রী। ওইদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার পরেই যাদবপুরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড় (Jagdeep Dhankhar)। তাছাড়া যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হেনস্তার ঘটনায় রাজ্যপাল আঙুল তুলেছিলেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাসের ভূমিকা নিয়েও। এরপরেও শিক্ষামন্ত্রী রাজ্যপাল বাগযুদ্ধ থেমে থাকেনি। এদিন রাতে এই ফেসবুক পোস্ট আবারও নতুন করে বিতর্ক বাড়ালো রাজ্যপাল-শিক্ষামন্ত্রী সম্পর্কে। শুধু শিক্ষামন্ত্রী নন, বর্তমান রাজ্যপালের সঙ্গে প্রায় গোড়া থেকেই সংঘাত শুরু হয়েছে রাজ্য সরকারের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news