নীল রায়:
এসএসসি পরীক্ষার্থীরাই কোচবিহার লোকসভা ভোটে বড় ফ্যাক্টর হতে পারেন। না, তাঁরা কোচবিহারের কোনও শহরে নতুন করে ধরনায় বসছেন না। কলকাতা প্রেস ক্লাবের কাছে ২৭ দিন অনশনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাস পেয়ে তাঁরা জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন বলে জানিয়ে কর্মসূচিতে দাড়ি টেনেছেন। অথচ তাঁদের সেই অনশন কর্মসূচিই এবার বিপাকে ফেলতে পারে কোচবিহারের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারীকে। উল্লেখ্য, গত বছর ১৯ আগস্ট ফরওয়ার্ড ব্লকের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দেন এই বর্ষীয়ান নেতা। যিনি বাম জমানায় একটা বড় সময় খাদ্য দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। আশ্চর্যজনকভাবে পরেশ অধিকারী তৃণমূলে যোগদানের ঠিক চব্বিশ ঘণ্টা আগে এসএসসিতে তাঁর মেয়ে অঙ্কিতার চাকরি পাকা হয়ে গিয়েছিল। মেয়ের চাকরি হওয়ার পরদিনই তৃণমূল ভবনে শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে জোড়া ফুলের পতাকা নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন পরেশ। সেই সময় প্রশ্ন উঠেছিল, মেয়ের চাকরির পাওয়া জন্যই কি শাসক দলে নাম লেখালেন ফব নেতা? এমন প্রশ্ন শুনে বেজায় চটেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। পরে সেই বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। কিন্তু ১২ মার্চ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটের বাসভবনে কোচবিহারের বর্তমান তৃণমূল সাংসদ পার্থপ্রতিম রায়কে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পরেশ চন্দ্র অধিকারীর নাম ঘোষণা করতেই আবারও সেই বিতর্ক মাথা চাড়া দিয়েছে।

কোচবিহারের লোকসভার প্রায় প্রতিটি শহর তথা গ্রামেই অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরির পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। কয়েক মাস আগে পর্যন্ত যাঁকে ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা বলে জেনে এসেছেন কোচবিহার জেলার মানুষ। তাঁকে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করতেই ভোটারদের অসুবিধা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে দিনহাটা থেকে শুরু করে কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ, শীতলকুচি, নাটাবাড়ি সর্বত্র। তবে পরেশও সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন বিষয়টি এড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে ভোট প্রচারের। কেবলমাত্র বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামানিক তাঁর বিরুদ্ধে মেয়ের চাকরির বদলে তৃণমূলের যোগদানের বিষয়টি তুলে ধরছেন, এমনটা নয়। বাম প্রার্থী গোবিন্দ রায় ও কংগ্রেস প্রার্থী পিয়া রায়চৌধুরীও এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তুলছেন প্রায় প্রতিটি জনসভায়। কোচবিহারের নাগরিক মহলে আলোচনা, এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪০০ জন ছাত্রছাত্রী ২৭ দিন অনশন করার পরও রাজ্য সরকারের থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেননি। কিন্তু, কোন জাদু বলে পরেশ অধিকারীর মেয়ের নাম তালিকায় না থাকা সত্বেও, রাতারাতি সে এসএসসির চাকরি পেয়ে গেলেন! তাছাড়া এই কেন্দ্রে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের কোনও বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, কিংবা ব্লক সভাপতিদের কথা শোনার প্রয়োজন বোধ করেননি। তাই কোচবিহার জেলার অধিকাংশ নেতাই ঘরে বসে “তামাশা” দেখছেন।
এই মওকায় কোচবিহারের ক্ষত্রিয় সমাজের ভোট নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো কোচবিহার জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তাকে আচমকাই বদলি করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাতে তৃণমূলের ভোটিং মেশিনারি জোর ধাক্কা খাবে বলেও দাবি করেছে বিজেপি। তাই প্রচারপর্ব শেষে কোচবিহারের লড়াইয়ে কিছুটা হলেও ব্যাকফুটে তৃণমূল।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news