নিজস্ব সংবাদদাতা, সিউড়ি:
দলীয় নির্দেশকে অমান্য করে বীরভূমের পাঁচ জন ব্লক সভাপতি ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে প্রার্থী হয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত দল তাঁদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এনিয়ে দলের মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের নির্দেশ কোনও ব্লক সভাপতি ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারে না। কিন্তু সেই নির্দেশকে অমান্য করে বীরভূমের পাঁচটি ব্লকের সভাপতিরা জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রার্থী হয়েছেন। দলের নির্দেশ অমান্য করায় শুক্রবার জেলা কমিটির সভায় উষ্মা প্রকাশ করেন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তবে যে সমস্ত ব্লক সভাপতিরা প্রার্থী হয়েছেন তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নেবেন।
মহম্মদ বাজার ব্লকের রামপুরহাট বিধানসভা এলাকার ব্লক সভাপতি গৌতম মণ্ডল পঞ্চায়েত সমিতির ২৭ নম্বর আসনে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি জেলা পরিষদে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। দলের নির্দেশে ধীরেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই আসন ছেড়ে দিয়েছি। কারণ ওই আসনে ১০ জন দাবিদার হয়ে গিয়েছিল। দলে ক্ষোভ মেটাতেই আমি প্রার্থী হয়েছি। দল নির্দেশ দিলে ব্লক সভাপতির পদ ছেড়ে দেব”। কড়িধ্যা যদু রায় হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সিউড়ি ১ নম্বর ব্লক সভাপতি স্বর্ণশঙ্কর সিংহ পঞ্চায়েত সমিতিতে মল্লিকপুর অঞ্চল থেকে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি রাজ্যে দ্বিতীয় পঞ্চায়েত নির্বাচন ১৯৮৩ সালে মল্লিক পঞ্চায়েতে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়েছিলাম। ১৯৮৮ সালে জেলা পরিষদে দাঁড়িয়ে হেরেছিলাম। ১৯৯৮ সালে তৃণমূল গঠন হওয়ার সময় আমি সিউড়ি ১ নম্বর ব্লকের আহ্বায়ক ছিলাম। পড়ে ব্লক সভাপতি হয়েছি। এবার গ্রামের মানুষের অনুরোধে ভোটে দাঁড়াতে হয়েছে। জেলা নেতৃত্বকে জানিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছি”। ব্লক সভাপতি পদ ছাড়ার প্রশ্নে তার বক্তব্য দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নেব। ময়ূরেশ্বর ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আশিস চন্দ্র বলেন, “আমি ১৯৮৮ সাল থেকে উলকুণ্ডা গ্রাম পঞ্চায়েতে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে আসছি। ১৯৯৯ সালে তৃণমূলের টিকিটে পঞ্চায়েতে দাঁড়িয়ে জয়ী হয়েছি। এখন আমি উলকুণ্ডা পঞ্চায়েতের সদস্য। এবার আমাকে কর্মী সমর্থকেরা জোর করে প্রার্থী করেছে। জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েই প্রার্থী হয়েছি। এখন দল যা চাইবে তাই করব”। মুরারই ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি বিনয় ঘোষ বলেন, “আমি এর আগে মহুরাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলাম। গত নির্বাচনে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। তাই এলাকার মানুষের চাহিদা মেনে এবারও প্রার্থী হয়েছি। এবার এখনও পর্যন্ত আমার আসনে কেউ প্রার্থী দিতে পারেনি। দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নেব”। মুরারই ২ নম্বর ব্লক সভাপতি আফাতাব উদ্দিন মল্লিক বলেন, “পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ আমাকে প্রার্থী করেছে। আমি জেলা পরিষদের ৩৭ নম্বর আসনে প্রার্থী হয়েছি। ওই আসনে কেউ প্রার্থী দেয়নি। তবে জেলা সভাপতি বললে ব্লক সভাপতির পদ ছেড়ে দেব”। মুরারই বিধানসভা এলাকার নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, “আমরা নির্দিষ্টভাবে মুরারই ২ নম্বর ব্লকের সভাপতিকে দাঁড়াতে অনুমতি দিয়েছি। তবে মুরারই ১ নম্বর ব্লকের বিষয়টি দল খতিয়ে দেখছে”।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news