নিজস্ব প্রতিনিধি :
বিয়ের কনে-র কত বয়েস সেটা বিচার্য নয়। সে ঋতুমতী হলেই তাকে বিয়ে করা যাবে। পাকিস্তানের এক আদালত একটি খ্রিস্টান নাবালিকার অপহরণ এবং জবরদস্তি বিয়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় এমনই রায় দিল। করাচির সিন্ধ হাইকোর্টের এই রায় স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড় ফেলে দিয়েছে সব মহলে।
পাকিস্তানি খ্রিস্টান মেয়ে ১৪ বছরের হুমা ইউনুসকে অপহরণ করে জোর করে বিয়ের অভিযোগ ওঠে এক আবদুল জব্বার নামে এক মুসলিম ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মেয়েটির অভিভাবকরা পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।সেই মামলারই শুনানি চলছিল পাকিস্তানের এক হাইকোর্টে।সিন্ধ বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মেয়ের বিয়ের বয়েস হওয়া উচিত কম করে ১৮। কিন্তু এদিন বিচার চলাকালীন ইকবাল কালহোরা এবং ইরশাদ আলি শাহ নামে দুই বিচারপতি বলেন যে মেয়ে যদি ঋতুমতী হয় তাহলেই এই বিয়ে বৈধ। বিয়ের জন্য মেয়ের সাবালিকা হওয়ার দরকার নেই। শরিয়ৎ আইন অনুযায়ী এই বিয়ে সিদ্ধ বলে রায় দেন তাঁরা। একদিকে যখন ক্রমাগত পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা তাঁদের ওপর হওয়া অত্যাচার নিয়ে অভিযোগ উঠছে পাকিস্তানি মুসলমানদের বিরুদ্ধে, তখন এই রায় সেই অভিযোগেরই সত্যতা প্রমাণ করল বলা বাহুল্য।
রায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন পাকিস্তানে মহিলা সাংবাদিক এবং সমাজকর্মীরাও। সাংবাদিক নায়লা ইনায়েৎ লিখেছিলেন যে, মেয়েকে অপহরণের পর হুমার মা নাগিনা ইয়ুসুফ বলেন যে, পাকিস্তানের অপহরণ আর জবরদস্তি বিয়ে ঠেকাতে এরপর থেকে খ্রিস্টান মা-রা কি তবে তাঁদের মেয়েদের হত্যা করবেন ? কোর্টের রায়ে ক্রুদ্ধ আর এক সাংবাদিক দানিকা কমল টুইট করে বলেন, মেয়েটিকে অপহরণ করে বিয়ে করা হল। এখন আদালত বলছে যে মেয়েটি ঋতুমতী হলে এই বিয়ে বৈধ। এই আবাদের দেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থা। এই আমাদের দেশে মেয়েদের অবস্থা। ইউরোপের খ্রিস্টানরাও এই রায়কে ধিক্কার জানিয়ে ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন কমিশন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পাকিস্তানের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছেদ করার আর্জি জানিয়েছেন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news