Breaking News
Home / TRENDING / এবার কার পালা? ভীত ওঁরাই বলুক, জেলে পোরার সময় কতটুকু সম্মান প্রাপ্য ওঁদের!

এবার কার পালা? ভীত ওঁরাই বলুক, জেলে পোরার সময় কতটুকু সম্মান প্রাপ্য ওঁদের!

নিজস্ব সংবাদদাতা:

লোকসভা ভোটের পর সব কেমন গুলিয়ে গেল! শুধু রাজ্য রাজনীতিতে না, গোটা দেশেই। চারদিকে আজব কাণ্ড ঘটে চলছে কেবল! এই যেমন আজ পি চিদাম্বরমের গ্রেফতারি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, জেলে পুরুন কিন্তু সম্মান দিয়ে পুরুন। কেন? যেহেতু চিদাম্বরম কংগ্রেস নেতা, তদুপরি প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী, একদফায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দায়িত্বও সামলেছেন। মমতা বলতে চাইলেন, তাঁকে ওভাবে ধাওয়া করে, পাঁচিল টপকে গ্রেফতার করা হবে কেন! পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চাইলেন, ব্যাপারটা নেহাতই অসম্মানজনক হয়েছে।

ঘটনা সত্যি। একদিকে যখন দিল্লি হাইকোর্ট, পরে সুপ্রিম কোর্টও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর (গ্রেফতারি এড়ানোর) দায়িত্ব নিল না, তখন সিবিআই স্বভাবতই তাদের কাজে নামল। অভিযুক্ত অপরাধিকে ধরতে হানা দিল বাড়িতে। কিন্তু ‘বেপাত্তা’ চিদাম্বরম। এরমধ্যে আরেক দফায় কপিল সিব্বালের মতো আইনজীবীরা মরিয়ে চেষ্টা করলেন শীর্ষ আদালতে। কিন্তু আইন আইনের পথে চলল, ব্যর্থ হলেন ওঁরা। সংবাদমাধ্যমগুলো হক কথাই লিখল—যে কোনও সময় গ্রেফতার হতে পারেন চিদাম্বরম। কিন্তু তিনি কংগ্রেস নেতা, যার বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার মামলা, সেই তিনি পি চিদাম্বরম নিজের সম্মান বজায় রেখে ধরা দিলেন না কিন্তু! বাধ্য হয়ে কলকাতা পুলিশ ও জনৈক ছিচকে চোর গল্প ঘটে গেল। সিবিআই আধিকারিকদের উঁচু পাঁচিল টপকে পাকড়াও করতে হল দেশের এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে। কথা হল, চারশো কোটির চিদাম্বরম পাকড়াও শো’ই ছিল যথেষ্ট, এর ওপর মমতা দিলেন ‘জেলে পোরার সম্মান’ বিষয়ক থিওরি!

একটা জিনিস বোধ হয় পরিস্কার হয়ে যাচ্ছে ক্রমশ, আর নেতা-মন্ত্রী-সান্ত্রী হয়ে নিশ্চিন্তি নেই। তাছাড়া এমন দেশ তো আমরা চাইনি, যেখান ক্ষমতাহীন বলে গরিব দশ টাকা চুরি করে দশ বছর জেল খাটবে, আর ক্ষমতাবান দশ হাজার কোটি আত্মসাৎ করে দিব্য লালবাতি চড়ে ঘুরবে! এমনকী জনৈক সৎ নাগরিককে বিপদে আপদে ওই দুর্নীতি পরায়ণ নেতার হাতে পায়ে ধরতে হবে! এই চিত্রই দেখা আসছে গত চুয়াত্তর বছরের স্বাধীন ভারত। দেখা আসছে ফাইভস্টার হোটেলের বিলাসের জীবনে অভ্যস্ত কাটমানি খাওয়া মহাচোরেরা। যত বড় চোর তার জন্য তত এ থেকে জেড প্লাস সিকিউরিটি। এমন দিন কি তবে ফিকে হতে চলেছে এবার! হতেই পারে। পাল্টা হাওয়া বোধ হয় শুরু হয়ে গেল!

বুকে বল পাচ্ছে আমজনতা যখন দেখছে, যে লোকটার হুঙ্কার ছিল—যব তক দুনিয়া মে আলু, তব তক বিহার মে লালু। সেই দোর্দাণ্ডপ্রতাপ লালু পর্যন্ত মুক্তবাতাসের মুখ দেখেনি বহুকাল। সাহারার সুব্রত রায় জেলে। বিদেশে পালিয়েও নিস্তার নেই, সরকার কেলেঙ্কারিওলাদের দেশে ফিরিয়ে আনার পক্রিয়া চালাচ্ছে জোর কদমে। এদিকে এ’রাজ্যে সুদীপ্ত সেন, গৌতম কুণ্ডুর মতো শাসক ঘনিষ্ট তাবড় চালিয়াতরা চোরকুঠুরিতে। সারধা, নারদা, রোজভ্যালির কামাই বন্ধ। গরিবের সর্বানাশ করে দুর্নীতির করে বড়লোক হওয়ার রাস্তা করে দেওয়া রাজনীতিবিদরা, মিডিয়াওলারা; তারাও হয় জেলে, না হলে জেল থেকে কদিন ছুটিতে, অথবা জেলে যাব যাব করছেন।

সব মিলিয়ে মন বলছে, দেরি করে হলেও ধর্মের কল ফের বাতাসে নড়তে শুরু করেছে। এবার রেয়াত নেই কারো! হ্যাঁ, সব মিলিয়ে ভয় ভয় একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে বটে। সৎ সাধারণ নাগরিকের জন্য সে ভয় নয়। উদয়-অস্ত পরিশ্রমে যে মানুষটা রুটি জোগাড় করে, প্রতিভা ও অধ্যাবসায়ে যিনি সচ্ছল জীবন গড়েছেন, তাঁর সঙ্গে এই ভয়ের সম্পর্ক নেই মোটে। কিন্তু ওই, ওঁদের ভয় পাওয়ানো জরুরি। খুব জরুরি।

ওঁরা ভাবুক, চিদাম্বরমের পর কার পালা? আমার নয় তো? ওঁদের শিরদাঁড়া দিয়ে ঠাণ্ডাস্রোত বয়ে যাক। ওঁরাই ঠিক করুক, জেলে পোরার সময় কতটুকু সম্মান প্রাপ্য ওঁদের!

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *