নীল রায়। লোকসভা ভোটে শোচনীয় হারের পর দলীয় সংগঠনে এক ঝাঁক রদবদল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে নিজের কালীঘাটের বাসভবনে দলে ৪২ জন লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নেতা মন্ত্রী ও জেলা সভাপতিদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংগঠনিক রদবদলের কথা নিজেই জানিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পরাজিত প্রার্থীদের দল ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদে নিয়োগ করে মেরামতের চেষ্টা করেছেন মমতা। তৃণমূল সুপ্রিমো ঘোষণা অনুযায়ী, উওর দিনাজপুর জেলার সভাপতি হলেন রায়গঞ্জ লোকসভায় পরাজিত কানহইয়ালাল আগরওয়াল। সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে চেয়ারম্যান করা হল অমল আচার্যকে। বালুরঘাটে পরাজিত প্রার্থী অর্পিতা ঘোষকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি করা হয়েছে। মালদহ উত্তর কেন্দ্রীয় পরাজিত প্রার্থী মৌসম নুরকে দেওয়া হয়েছে রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ। সঙ্গে মালদা জেলার সভাপতি হয়েছেন মৌসম বেনজীর নুর। সভাপতি পদ সরিয়ে চেয়ারম্যান হলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বিজয় কৃষ্ণ বর্মন। জলপাইগুড়ি লোকসভা ভোটে পরাজিত হয়েছেন বিজয় কৃষ্ণ। ঝাড়গ্রাম জেলার সভাপতি বীরবাহা সোরেন। ঝাড়গ্রাম লোকসভা থেকে পরাজিত হয়েছেন বীরবাহা। মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি আবু তাহের খান, চেয়ারম্যান হলেন সভাপতি সুব্রত সাহা। আবু তাহের অবশ্য মুর্শিদাবাদ থেকে সাংসদ হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন দার্জিলিং লোকসভার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী অমর সিংহ রাই। হাওড়া, হুগলী, বীরভূম, বর্ধমান পর্যবেক্ষক ফিরহাদ হাকিম। বর্ধমান ও হুগলির পর্যবেক্ষক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল অরূপ বিশ্বাসকে। তবে উত্তরবঙ্গ পর্যবেক্ষক রয়ে গিয়েছেন অরূপ। উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগমের চেয়ারম্যান করা হল অপূর্ব সরকারকে। বহরমপুরে অধীর চৌধুরীকে কঠিন লড়াই দিয়ে হার মানতে হয়েছিল এই অপূর্বকে। হুগলি জেলার চেয়ারম্যান রত্না দে নাগ। আহ্বায়ক দিলীপ যাদব, অসীম পাত্র, প্রবীর ঘোষাল। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে অভিনেত্রী তথা বিজেপি লকেট চট্টোপাধ্যায়ের কাছে হেরে গিয়েছেন পেশায় চিকিৎসক রত্না দে নাগ। নদীয়া জেলাকে দুটি পৃথক সংগঠনে বিভাজিত করে রানাঘাটের সভাপতি হলেন শংকর সিংহ। কৃষ্ণনগরের সভাপতি সদ্য জয়ী সংসদ সদস্য মহুয়া মৈএ। এইচ আর বি সি চেয়ারম্যান পদ দেওয়া হয়েছে ব্যারাকপুরের পরাজিত প্রার্থী দীনেশ ত্রিবেদীকে।লোকসভার দলনেতা হলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। উপ দলনেতা কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাঁকুড়াকেও দুটি পৃথক সাংগঠনিক জেলায় করে দেওয়া হয়েছে। বাঁকুড়ায় সভাপতি শুভাশিস বটব্যাল। বিষ্ণুপুর সভাপতি শ্যামল সাতরা। বর্ধমান পশ্চিম জিতেন তেওয়ারি। বর্ধমান পূর্ব স্বপন দেবনাথ । জঙ্গলমহলের জেলাগুলির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কে। সঙ্গে সরকারি কর্মচারী সংগঠন এর দায়িত্বভার দেখবেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। আবারও ৩১ মে কালীঘাটেই দলীয় নেতৃত্ব কে নিয়ে বৈঠকে বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news