প্রসেনজিৎ মাহাতো
‘নিজেকে ঘরবন্দি করে রাখতাম। শুধু কঁাদতাম। ঘর থেকে বেরোলেই লোকজন বারবার একই কথা জিজ্ঞেস করত। একদম ভাল লাগত না। ভাবতাম, আর কোনওদিনই হয়তো ফুটবল খেলতে পারব না।’ এক নাগাড়ে কথাগুলো বলতে বলতে গলা বুজে এল সুরজ মণ্ডলের। কিছুটা থমকে বললেন, ‘ছাড়ুন, এসব কথা শুনে আর কী করবেন। যা হওয়ার হয়ে গেছে।’
হ্যাঁ, পুরনো কথা ভুলে আবার নতুন করে শুরু করতে চাইছেন ময়দানে ১৮ বছর কাটানো ফুটবলার সুরজ মণ্ডল। গত মরশুমে যঁার বিরুদ্ধে গড়াপেটার অভিযোগে তোলপাড় হয়েছিল ময়দান। এবারে কলকাতা লিগের তৃতীয় ডিভিশন ক্লাব কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনে সই করেছেন সুরজ। পায়ে ফুটবল ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন, ‘কীভাবে যে আমার সময় কেটেছে, একমাত্র আমি জানি। কাছের বন্ধুরা সবাই দূরে সরে গিয়েছিল। ময়দানেক বন্ধু ফুটবলাররা আমাকে ফোন করাই ভুলে গিয়েছিল। কিন্তু, আমার খারাপ সময় পাশে ছিল বন্ধু আকাশ দাস। ও সবসময় আমাকে সমর্থন করে গেছে। আর একটাই কথা বলত, তুই যখন কোনও অপরাধ করিসনি, তোর কোনও চিন্তা নেই।’
গড়াপেটা কাণ্ডে জড়িয়ে পড়া, তারপর কলার বোনে চোট পাওয়া। সবমিলিয়ে ফুটবল কেরিয়ারটাই শেষের মুখে হাজির হয়েছিল। সেখান থেকে ফের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফুটবলে িফরছেন সুরজ। বলছিলেন, ‘বাবুনদাকে (স্বপন ব্যানার্জি, কালীঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বময় কর্তা) ধন্যবাদ। তিনি আমাকে সাহায্য না করলে আজ এই দিনটা আসত না। এই ক্লাবকে চ্যাম্পিয়ন করিয়ে দ্বিতীয় ডিভিশনে তুলবোই। এটাই আমার এখন প্রধান লক্ষ্য। যতদিন এই ক্লাব চাইবে আমি সার্ভিস দিয়ে যাব।’ সুরজের কথায়, তিনি যে নির্দোষ ছিলেন, এটা প্রামণ করতে ফুটবলকেই হাতিয়ার করতে হবে। এবারে ভাল খেলে সবাইকে প্রমাণ করবেন।
হাওড়া স্টেডিয়ামের মাঠে চুটিয়ে অনুশীলনে ডুবে রয়েছেন। দলের প্র্যাকটিস শেেষ বাড়ি ফিরে বিকেলেো বাড়তি অনুশীলন করছেন। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা সুরজের একটাই লক্ষ্য, এবারে আরও ভাল খেলতে হবে। ‘ভেবেছিলাম আর ফুটবল খেলেতে পারব না। বিশ্বাস করুন, আমি গড়াপেটার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না, ইয়ার্কি করে কথাটা বলেছিলাম। আজ ফুটবল ফিরে পেয়ে খুব খুশি। নির্বাসিত থাকার সময়ে বাড়িতে বসে খালি ভাবতাম, আমার েছলে কোনওদিন ফুটবল খেললে বাবার বদনাম কাহিনী শুনলে আমাকে খারাপ ভাববে।’
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news