নীল রায়।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় মাথা ফেটে গেল ছাত্র সংসদের সভানেত্রী ঐশী ঘোষের (Oishi Ghosh)। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে এইমস হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার দায় পুরোপুরি বিজেপি ছাত্র সংগঠনের উপরেই চাপিয়েছে এসএফআই (SFI) সর্বভারতীয় নেতৃত্ব। ‘বহিরাগত’রা হস্টেলে ঢুকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মুহূর্তে জেএনইউ (JNU) ক্যাম্পাসে ব়্যাফ ঢুকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এসএফআই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ময়ুখ বিশ্বাস স্পষ্ট অভিযোগ করে বলেন, ”শনিবার রাত থেকে ক্যাম্পাসে বাইরে থেকে এবিভিপি সদস্যরা ঢুকছে। কর্তৃপক্ষের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়েই তাঁরা ঢুকতে পারছে ক্যাম্পাসে। তাদের সকলের মুখ ঢাকা। তারপর রাতের অন্ধকারে হস্টেল থেকে ছাত্রছাত্রীদের বের করে মারধর চলছে। রবিবার সন্ধ্যা ৬’টার কিছু পরে ফের হস্টেলে ঢুকে এমন তাণ্ডব শুরু করে তারা। ঐশীর চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে যায়। দেওয়ালে প্রবল জোরে মাথা ঠুকে দেয়। তার জন্যেই ওর মাথা এভাবে ফেটে গিয়েছে।” অভিযোগ অস্বীকার করে এবিভিপি-র (ABVP) সভাপতি দুর্গেশ কুমারের পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘গত দু’মাস ধরে কারা ক্যাম্পাসে অশান্তি ছড়াচ্ছে? ৫০-৬০ জন কি হাজার জনকে মারতে পারে?’’ ঐশীর ওপর আক্রমনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে টুইট করে বলা হয়েছে, “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেএনইউ হিংসার ঘটনা নিয়ে দিল্লির পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মাননীয় মন্ত্রী যুগ্ম কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্তৃক তদন্তের আদেশও দিয়েছেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ বিষয়ে রিপোর্ট দিতে বলেছেন।”

হামলার ঘটনার পর নিন্দায় সরব হন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনার নিন্দার পাশাপাশি, দিনেশ ত্রিবেদীর নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল আক্রান্তকে দেখতে পাঠানোর কথা ঘোষণা করে দেন। সর্বভারতীয় বিজেপির পক্ষে ঘটনার নিন্দা করে টুইট করা হয়। বলা হয়, “আমরা জেএনইউ ক্যাম্পাসে আক্রমণের তীব্র নিন্দা করি। এটি অরাজকতা বাহিনীর একটি মরিয়া প্রচেষ্টা, যারা ছাত্রদের দমন করতে বদ্ধপরিকর, তাদের সঙ্কুচিত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অশান্তি তৈরি করে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে পড়াশোনা এবং শিক্ষার স্থান থাকতে হবে।”
সূত্রের খবর, কথা বলার মতো অবস্থাতেও নেই ঐশী। মেয়ের এই পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগে ঐশীর দুর্গাপুরের পরিবার। সম্প্রতি জেএনইউতে এসএফআইয়ের মুখ হিসেবে উঠে এসেছে ঐশী। ঘটনার পর লিখিত বিবৃতি জারি করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, “যে বর্বরোচিত আক্রমণে আজ দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে ছাত্র ছাত্রীদের রক্ত ঝরলো, আমরা তার তীব্র নিন্দা করি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, সারা দেশের গণজাগরণে বিজেপি ও সংঘ পরিবার আজ ভীত হয়ে উঠেছে, তাই এভাবে কাপুরুষোচিত আক্রমণের পথ তারা বেছে নিয়েছে। আমরা এও মনে করি যে, এভাবে দমন-পীড়নের মাধ্যমে দেশের ছাত্র-যুবদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করা যাবে না।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news