অমিত রায় :
জেলা পর্যবেক্ষকের পদ তুলে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দলের বরিষ্ঠ নেতাদের নানা সময় বিভিন্ন জেলা সংগঠনের পর্যবেক্ষক পদে বসিয়ে কখনও সাফল্য, কখনও ব্যর্থতা হাতে এসেছে তৃণমূল (TMC) নেতৃত্বের। কিন্তু কোনও এক বিশেষ কারনে কিছু নেতার দায়িত্ব কাটছাঁট করেছেন মমতা। সেই পদ্ধতিতেই বাদ গিয়েছে পর্যবেক্ষকের পদ। ঘুরপথে কলকাতায় বসেই প্রায় সমস্ত জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন তাঁর সাংসদ ভাইপো তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এক্ষেত্রে তাঁর সহযোগী পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor)। পিকে স্যারের দেখানো পথেই আপাতত রাজ্য সংগঠনের পাশাপাশি জেলা সংগঠনে কড়া নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপো।
২৩ জুলাই ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে দলের সাংগঠনিক রদবদল করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেই পর্যায়ে জানিয়ে দেওয়া হয় পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি কার্যকরী সভাপতি পদটিও বিলুপ্ত হচ্ছে তৃণমূলের সংগঠন থেকে। পর্যবেক্ষক পদটি উঠে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি কোপ পড়েছে পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ওপর। গত লোকসভা ভোটের পর সংগঠনের হাল ধরতে সাতটি জেলায় পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari)। যদিও তার আগে থেকেই বেশ কয়েকটি জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনি। দায়িত্ব নিয়ে কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর সদর উপনির্বাচন জিতিয়েছিলেন শুভেন্দু। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই পদ সরিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও ছেঁটে ফেলা হয়েছে তাঁকে। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর সহ সাতটি জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনি। তৃণমূলের আরও এক যুবনেতা তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ছিল নদীয়া আলিপুরদুয়ার ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সংগঠনের পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব। ডানা ছাঁটা হয়েছে তাঁরও।
বর্তমানে সব জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব তুলে দিয়ে নতুন কমিটি করেছেন মমতা। জেলাভিত্তিক চেয়ারম্যান, সভাপতি ও কো-অর্ডিনেটর করে জেলা সংগঠন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে তৃণমূলের। সমন্বয় কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করবে জেলা সংগঠন। মৌখিকভাবে দলীয় নেতাদের এই বার্তা দেওয়া হলেও, আসলে সংগঠনের যাবতীয় চাবিকাঠি রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর হাতে। তিনি কলকাতায় বসে জেলা সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন। তাঁর পাশে থাকছেন পরামর্শদাতা প্রশান্ত কিশোর। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সী ও মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় উপস্থিত থাকলেও তাঁদের কথা বলার খুব বেশি সুযোগ হচ্ছে না বলেই সূত্রের খবর। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান নেতার কথা, কর্তার ইচ্ছায় কর্ম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছেন তাই সুব্রত বক্সী ও পার্থ চট্টোপাধ্যায় বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন। তিনি চাইছেন বলেই এই দুই শীর্ষ নেতা বৈঠকে চুপ করে আছেন।
আপাতত হুগলি, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক সেরে ফেলেছেন অভিষেক। ধাপে ধাপে সমস্ত জেলাগুলির সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করবেন তিনি। জেলা সংগঠনের সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা তথা শক্তি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করছেন অভিষেক। ওই সমস্ত জেলায় গেরুয়া শিবিরের শক্তি বাড়ছে না কমছে সেই হিসেব-নিকেশ ওই বৈঠকে তাদের থেকে বুঝে নিচ্ছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি। বর্তমানে তিনিই তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news