কিশোর ঘোষ:
শব্দ মানে sound। তার মানে সে বিমূর্ত। বর্ণও তো রং! যা নেই তাকে হরপে ধরতে চেয়েছিল আদি ভাষাবিদরা। বিমূর্তকে মূর্ত করে তোলার চেষ্টাই আসলে অক্ষর, শব্দ, বাক্য। এর ঠিক উল্টো হাঁটলেন পরিচিত কবি, তুলনায় ‘বিমূর্ত’ চিত্রকর নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়। শব্দ, অক্ষরকে ফের বিমূর্ত বিশ্বের দিকে ছুড়ে দিলেন স্বকীয়তায়। রাজডাঙা মেইন রোডের মায়া আর্ট স্পেস-এ সোমবার ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হল তাঁর অভিনব শিল্প প্রদর্শনী পোয়েট্রি অন ক্যালিগ্রাফি। এই পোয়েট্রি অবশ্য অবশ্যই বাংলা কবিতা। নিজের কবিতার একটি শব্দ বা গোটা পংক্তিকে ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে চিত্রকলা করে তুলেছেন তিনি। বৃষ্টিকে এমন ভাবে লিখেছেন যাতে করে ফুটে উঠেছে বৃষ্টির বিভাব। শূন্য, ছায়া, মেঘ, মায়া, মৃত্যু নিয়েও একই কথা বলা যায়।
নীলাঞ্জন এই অন্য শিল্পের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সূর্যোদয়ের দেশ জাপান থেকে। জেন মাস্টারদের দেশের সঙ্গে তাঁর অনেক দিনের সম্পর্ক। যেখানে হাজার বছর ধরে ক্যালিগ্রাফির চর্চা হয়ে আসছে। চিনা হরফ, যে হরফে জাপানি ভাষা লেখা হয় তা আসলে ছবি। যেমনটা আমাদের চন্দ্রবিন্দু। দেখলেই আধখানা চাঁদকে মনে পড়ে। নীলাঞ্জন জানান, জেন কবি তথা হাইকু কবিতার কবিরা কেবল সাধারণ কলমে কবিতা লেখেন না। তুলি দিয়ে কবিতা লেখেন তাঁরা। যা হয়ে ওঠে অসামান্য ক্যালিগ্রাফি। আমি বাংলা ভাষায় একটা চেষ্টা করলাম।
এদিনে একইসঙ্গে নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা ও ছবির একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হল। যা মায়া আর্ট স্পেশের কর্ণধার মধুছন্দা সেনের প্রথম প্রকাশনা। আগামী এক সপ্তাহ চলবে এই প্রদর্শনী। প্রদর্শনী কক্ষ খোলা থাকে দুপুর ২টো থেকে রাত ৮টা অবধি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news