দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়

আজ যদি সনিয়া গাঁধি (Sonia Gandhi) পদত্যাগ করেন, তাহলে বুঝতে হবে অসুস্থতার পাশাপাশি কৌশলও তাঁর পদত্যাগের বড় কারন। ঠিক যে কৌশলে রাহুল গাঁধি (Rahul Gandhi) বলেছেন যে তিনি কংগ্রেসের (Congress) মাথায় অ-গাঁধি কাউকে দেখতে চান। সোজা কথায় তাঁদের পরিবারের কেউ দলের সভাপতি হোন, এমনটা আর চান না রাহুল। কৌশল হিসেবে খুবই সময়োপযোগী। কিন্তু খেলা টা সম্ভবত হাফ-হার্টেড। কেন এমন কথা আসছে সেই আলোচনায় আসার আগে মনে করিয়ে দেওয়া ভাল রাহুল অ-গাঁধি দুটি নামের ইঙ্গিতও দিয়েছেন! একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও আর একজন বর্ষীয়ান নেতা ও ১০ জনপথের বিশেষ আস্থাভাজন এ কে অ্যন্টনি।
কেন বলছিলাম রাহুলের এই কৌশলী খেলা হাফ হার্টেড, তা এই দুটি নাম বাতাসে ভাসিয়ে দেওয়া থেকেই বোঝা যায়।
সনিয়া-রাহুলরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন মানুষ কংগ্রেস কে যত না বরখাস্ত করেছে তার চেয়ে অনেক বেশি বাতিল করেছে তাঁদের পরিবার কে। বিশেষ করে শত চেষ্টা সত্বেও রাহুল নিজেই নিজেকে মোদির প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাতে পারছেন না। তার ওপর সনিয়া রাহুলের জন্যই বিজেপি বারবার করে কংগ্রেস কে পারিবারিক দল বলে দেগে দিচ্ছে। সংসদে ও বাইরে বিজেপির কংগ্রেস আক্রমণের প্রায় পুরোটাই পর্যবসিত হচ্ছে ব্যক্তি আক্রমণে বা একটি পরিবার কে আক্রমণে। প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে রাহুল কে কটাক্ষ করে বলতে পারছেন, ‘আপনার চোখে চোখ রেখে কথা বলব কী! সুভাষ বোস চোখে চোখ রেখে কথা বলতে গেছিলেন, তাঁর পরিণতি সবাই জানে।’ এইভাবে শ্যামাপ্রসাদ থেকে লাল বাহাদুর হয়ে যখন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের নাম এক সারিতে নিয়ে মোদি সংসদে দাঁড়িয়ে অন রেকর্ড আক্রমণ করেন, তখন সেই আক্রমণ যে দল কে নয় বরং রাহুলের পরিবার কে করা হচ্ছে তা বুঝতে কারও অসুবিধা হয় না। কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিকও কয়েকদিন আগে কেরলের মানুষকে দুষেছেন এই বলে, যে রাহুল কে সংসদে পাঠিয়ে তাঁরা ভুল করেছেন। রাহুল সংসদে রয়েছেন বলেই মোদি তাঁর পূর্বপুরুষদের আক্রমণে অধিক আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তার ওপর দল কে নিয়ে বিবিধ পরীক্ষা নিরীক্ষা, কখনও আম আদমির সেপাই, কখনও আই ফোন পলিটিক্স, কখনও আবার নতুনদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে দলে নতুন-পুরনোর বিবাদে ইন্ধন দেওয়া… হালে নিজের মেক ওভার করেও রাহুল চেষ্টা করেছেন মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হতে। গোটা দেশে কংগ্রেসের প্রাপ্ত ভোটের হিসেব বলছে, রাহুল মানুষের সমর্থন পান নি।
সেই দিক থেকে দেখলে নিজেকে বা নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার কৌশল খুবই প্রশংসনীয়। কিন্তু চিত্রনাট্য দুুর্বল হওয়ার কারনে এই ছবিও বাজারে চলবে না। আর একটু ভেবে, আর একটু গুছিয়ে যদি দলের মধ্যে একটা ছদ্ম বিদ্রোহ ঘটাতে পারতেন ! যদি কাউকে বিদ্রোহী সাজাতে পারতেন, তাহলে হয়ত কিছুটা কাজ হত। এক্ষেত্রে কিছুই হওয়ার নয়।
এই জন্যেই বলছিলাম, খেলা টা হাফ হার্টেড হল। ১৯৯৯ তে এমনই হয়েছিল। শরদ-সাংমাদের বিদেশিনী তত্ত্বের জেরে সনিয়া কার্যকরী কমিটির সভায় এসে পদত্যাগ করেছিলেন। তার তিনদিন পর দেখা গেছিল সনিয়ার পদত্যাগ সিডব্লুসি খারিজ করে দিল, উল্টে শরদ পাওয়াররা দলত্যাগ করে এনসিপি গঠন করলেন।
তবে এবার সত্যিই যদি কেউ বা কারা থাকেন, যাঁরা সত্যিই দলের নেতৃত্বে বদল চাইছেন, শরদ পাওয়ারদের মত এবার তাঁদের দল ছাড়তে হলে ,তাঁরা আর নতুন দল গড়বেন না। সরাসরি মোদির হাত ধরবেন। কাজের মানুষ মোদিরও প্রয়োজন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news