চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
“তৃণমূলের জন্য মায়ের সোনা বন্ধক দিয়েছিল বাবা। অথচ কাজ হাসিলের পর বাবাকে ও পরে আমাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।” এমনটাই বললেন মুকুল পুত্র বিজেপি (BJP) নেতা শুভ্রাংশু রায় (Subhranshu Roy)।
বুধবার ‘আমার পরিবার বিজেপি পরিবার’ কর্মসূচিতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ফেসবুক পেজে লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। ছেড়ে আসা দল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস করেছি অনেক ছোটবেলা থেকে। আমি দেখেছি মায়ের সোনা বন্ধক দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কাজ হয়েছে। দেখেছি বন্ধক দেওয়া টাকা বাবাকে দলের কাজের জন্য নিয়ে যেতে। পরবর্তীকালে যখন কাজ হাসিল হয়ে গেছে কখনও বাবাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কখনো আবার আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” বীজপুর বিধায়ক আরও বলেন, “একটা এমন সময় গেছে, যিনি আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তাঁর জন্য রাত জেগে আমার মা রান্নাও করেছেন।”

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে কীভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে, তাও জানালেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের (Mukul Roy) বিধায়ক পুত্র। অনুষ্ঠানে সঞ্চালিকার এক প্রশ্নের উত্তরে মুকুল পুত্র বলেন, ” আমি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদানের পর থেকেই উন্নয়নের কাজে আমাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমি বিশেষভাবে মনে করি চেয়ারটা কোনদিনও স্থির নয়। আজ আমি যে চেয়ারে বসছি, কাল অন্য কেউ বসবে, পরদিন হয়তো অন্য কেউ। সে ভারতীয় জনতা পার্টির কেউ হতে পারে, আবার অন্য রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারে। মানুষের উন্নয়ন মানুষের হকের উন্নয়ন, এলাকার উন্নয়ন। অথচ সেই উন্নয়ন করতে গেলে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে।” কারণ উদাহরণস্বরূপ বীজপুর বিধায়ক বলেন, “এলাকার রাস্তাঘাট খারাপ হলে আমি বিধায়ক উন্নয়ন তহবিল থেকে অর্থ জেলাশাসকের দপ্তরে সই করে পাঠিয়ে দিচ্ছি। অথচ পরে দেখছি সেই টাকা পৌরসভায় আসেনি। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার সুবিধার্থে আমি সিসিটিভি লাগানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছি। সেটাও করতে দেওয়া হচ্ছে না। মহিলাদের সুরক্ষার জন্য আমি এই উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তাদের যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়। উশৃঙ্খল কোনও ঘটনা যাতে এলাকায় না ঘটে।”

বিধায়ক হওয়ার পর এলাকায় শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বীজপুর বিধায়ক। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার যে তাঁর সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচারণ করেছে সেই অভিযোগও করেছেন মুকুল পুত্র। তিনি বলেছেন, “বিধায়ক হওয়ার পর আমি আমার এলাকার শিক্ষার উন্নয়নে জন্য একটি আইটিআই কলেজ এবং একটি পলিটেকনিক কলেজ করতে চেয়েছিলাম। মহিলাদের জন্য যদি একটি কলেজ করা যায়, সে কথাও বলেছিলাম।”
শুভ্রাংশু আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহায়তায় আইআইটি কলেজ শুরু হয়েছিল। অবশ্যই হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায়। অনেকেই জানেন না যে কোনও আইটিআই কলেজ হলে তা কেন্দ্রের টাকায় হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতায় আমি কলেজটি করেছিলাম। তারপর আমি বিজেপিতে যোগদানের পর পলিটেকনিক কলেজ তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। একটা ইট গাঁথা হচ্ছে না সেখানে। অথচ জমি ও অর্থ সবকিছুই বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে।”
এরপরই বীজপুর বিধায়ক প্রশ্ন তুলেছেন, “পলিটেকনিক কলেজ হলে সেটি কি আমি বাড়ি নিয়ে যাব না আমার পরিবার নিয়ে যাবে নাকি ভারতীয় জনতা পার্টি নিয়ে যাবে ? “
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news