পার্থসারথি পাণ্ডা:
বিখ্যাত বি সরকার জহুরির কর্ণধার ছিলেন বীরেশ্বর সরকার। পারিবারিক ব্যবসা জহরতের হলে হবে কি, তাঁর রক্তে ছিল সংগীত। শুধু সংগীতই নয়, তাঁর ছিল ছায়াছবির প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা। তাই এগিয়ে এসেছিলেন ভালো চলচ্চিত্র প্রযোজনার জগতে। ছবি প্রযোজনা করতে এসে প্রথম থেকেই সব্যসাচীর কলম হাতে তুলে নিয়েছিলেন। নিজের প্রযোজিত ছবির গল্প, চিত্রনাট্য যেমন লিখেছেন, তেমনি সেই ছবির জন্য সুরসৃষ্টিও করেছেন নিজে। প্রথম ছবি ‘সোনার খাঁচা'(১৯৭৩), দ্বিতীয় ছবি ‘মাদার'(১৯৭৯), তৃতীয় ছবি ‘রাজনর্তকী'(১৯৯১)। মাত্র তিনটে ছবি ও হাতেগোনা কয়েকটি গানেই তিনি বাংলা ছবির সংগীত জগতে তিনি চিরস্মরণীয়। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমার, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁশলের মতো বিখ্যাত গায়ক গায়িকারা তাঁর সুরে কন্ঠ দিয়েছেন। সৃষ্টি হয়েছে ‘কে জানে ক’ঘন্টা’, বৃষ্টি বৃষ্টি বৃষ্টি’, ‘আমার নাম এন্টোনি’, ‘আহা কী দারুণ দেখতে’, ‘এক যে আছে রাজকন্যে’র মতো কালজয়ী গান।

বীরেশ্বরের সংগীত ছিল রক্তে, সংগীত ছিল নেশায়। তাই নিজের ব্যানারের ছবি ছাড়া আর কারও ছবিতেই সুর দেননি। সুর দেবেন না, এটাই ছিল তাঁর প্রতিজ্ঞা। হাজার অনুরোধেও সেই প্রতিজ্ঞা থেকে সরে আসেননি।

বীরেশ্বরের দোকানের ওপরেই থাকতেন গায়ক দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে বীরেশ্বরের ছিল গভীর বন্ধুত্ব। এই বন্ধুর অনুরোধেও তিনি অন্যের ছবিতে সুর না দেওয়ার প্রতীজ্ঞা থেকে সরে আসেননি। দ্বিজেন ছাড়াও সুরকার সুধীন দাশগুপ্ত ও রতু মুখোপাধ্যায়ের সাথে ছিল তাঁর দারুণ বন্ধুত্ব।
বীরেশ্বর গাড়ি চালাতে খুব ভালবাসতেন। একটা হাডসন গাড়ি ছিল তাঁর। মাঝে মাঝেই বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়তেন লং ড্রাইভে। তখন গাড়ির স্পিড উঠত আশি- একশো। এমনই আমোদপ্রিয় মানুষ ছিলেন বীরেশ্বর। বন্ধুবৎসল ও প্রতিভাবান এই সুরকার জন্মগ্রহণ করেছিলেন আজকের দিনটিতে। তাঁকে জন্মদিনে জানাই আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news