ডম্বরুপাণি উপাধ্যায়:
বসু বললেন, কম্যুনিস্টের মতো আচরন করো। গুরুবাক্য শিরোধার্য করে নয়াদিল্লি উড়ে গেলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। কম্যুনিস্টের মতো আচরন বলতে সোমনাথ বুঝলেন (সম্ভবত) লোকসভার অধ্যক্ষের পদের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ থাকা। এমনও হতে পারে লোকসভার স্পিকারপদে বসে দলীয় রাজনীতির উর্দ্ধে যে অবস্থানে তিনি পৌছে ছিলেন, সেই অবস্থানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
অন্যদিকে প্রকাশ কারাত সম্ভবত ভেবে ছিলেন কম্যুনিস্টের মতো আচরন মানে দলের নির্দেশ বাধ্য সৈনিকের মতো মান্য করা।
বিতর্কটি পুরনো। দলীয় কর্তব্য বনাম সাংবিধানিক দায়িত্ব। বুধবার সিউড়িতে পুরনো এই বিতর্কটি নতুন করে ফিরিয়ে এনেছেন মুকুল রায়। বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সিবিআইয়ের মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি নেত্রীর কথা অমান্য করে সিবিআইয়ের অফিসারদের সঙ্গে দেখা করেন। মুকুলের দাবি সেখান থেকেই নেত্রীর সঙ্গে তাঁর বিরোধের শুরু। এই ঘটনায় দুটি বিষয় সামনে আসে। প্রথমত একজন ব্যক্তি, সে যখন একটি রাজনৈতিক দলের নেতা আবার একই সঙ্গে আইনসভার সদস্যও বটে, তখন দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মান্য করা তার প্রাথমিক কর্তব্য নাকি রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করা? মুকুলের বক্তৃতার পর এই প্রশ্নও আরও একবার সামলে চলে এল।
আপাতভাবে সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ঘটনার সঙ্গে মুকুলের ঘটনার তেমন মিল নেই। সোমনাথ- কারাতের বিষয়টি ছিল একটি দলের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তজনিত বিতর্ক। সেদিক থেকে দেখলে মুকুল-মমতা বিষয়টি আলাদা। এক্ষেত্রে একটি কেলেঙ্কারির তদন্তে নেমে সিবিআইয়ের মুকুল রায়কে ডাকা ও তাঁর যাওয়া একেবারেই রাষ্ট্র ও ব্যক্তি উভয়ের সরাসরি বিষয়। এর মধ্যে কোনও তৃতীয় ব্যক্তি থাকতে পারে না। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী বিষয়টিকে এভাবেই ব্যখ্যা করছেন। তাঁর মতে সিবিআইয়ের তলব অগ্রাহ্য না করে মুকুল রায় ঠিক কাজই করেছিলেন।
মুকুলের একদা সহকর্মী, ও তাঁর ছেড়ে আসা দলের সিনিয়র নেতা সৌগত রায় এই বিষয়ে বিশদে কিছু বলতে চাননি। তবে অল্প কথায় যা বলেছেন তা ইঙ্গিতবহ। পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক সব শুনে মন্তব্য করেছেন, দলের চেয়ে দেশ বড়।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news