Breaking News
Home / TRENDING / মুকুল বেইমান হলে শত্রুঘ্ন কী! ভাবের ঘরে চুরি করছেন মমতা

মুকুল বেইমান হলে শত্রুঘ্ন কী! ভাবের ঘরে চুরি করছেন মমতা

ডম্বরুপাণি উপাধ্যায়:

মুকুল রায় দল ছাড়তেই তাঁকে বেইমান তকমা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত আলাপচারিতাতেও তিনি বলে থাকেন, যে তাঁর সব সহ্য হয় কিন্তু বেইমানি সহ্য হয় না। বিশ্বাসভঙ্গ বিষয়টি মমতার কাছে কতটা স্পর্শকাতর তা একটি উদাহরনেই বোঝানো যাবে।
তখন মমতা বিরোধী নেত্রী। সিপিএমের বিরুদ্ধে আগুনে লড়াই চালাচ্ছেন তখন। সেই সময় লোকসভার তৎকালীন অধ্যক্ষ ও দলের বর্ষীয়ান নেতা, তাত্ত্বিক, বসু ঘনিষ্ঠ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে বহিষ্কার করল দল। বলা ভাল বহিষ্কার করলেন প্রকাশ কারাত। সেই সময়, এই ঘটনায় মমতার প্রতিক্রিয়া নিতে যাওয়া উৎসুক সাংবাদিকদের অবাক করে মমতা কারাতের সিদ্ধান্তের সমর্থন করেছিলেন। রাজ্যের তথা দেশের সবকটি খবরের চ্যানেলের আর্কাইভে মমতার সেদিনের সেই বাইট এখনও থাকার কথা। দলের নিয়ম শৃঙ্খলা বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর মমতা সেদিন সোমনাথকে নিয়ে তৈরি হওয়া এক প্রকার বাঙালি আবেগকে পাত্তা না দিয়ে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করে বলতে দ্বিধা করেননি। বলেছিলেন, যেই হোন না কেন, দলের নিয়মানুবর্তিতা আগে। সোমনাথ তাঁর নৈতিক অবস্থানে সঠিক ছিলেন। কারাত হয়ত তাঁর দার্শনিক অবস্থানে। সে বিতর্ক আলাদা। সোমনাথ দলীয় সদস্য পদের চেয়ে স্পিকার পদের মর্যাদা রক্ষা করে কর্তব্য মনে করে দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন নাকি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে দেশের সংবিধানের কাছে সত্যনিষ্ঠ ছিলেন সেটাও ভিন্ন বিতর্ক। তবে মমতা সেদিন তাঁর কট্টর বাম বিরোধী ইউএসপির তোয়াক্কা না করে কারাতের সিদ্ধান্তকে মান্যতা দিয়ে ছিলেন।
অনেকে বলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে নাকি একমাত্র মমতার পরিবর্তন হয়েছে! বিদ্রূপ করে বলা কথাটিতে সম্ভবত কিছুটা হলেও সারবত্তা আছে। মুকুল সাংসদপদ ছেড়ে, দল ছেড়ে, বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। মমতার বিচারে তিনি হয়েছেন বেইমান। আর শত্রুঘ্ন সিংহ, যিনি এখনও বিজেপির সাংসদ, তিনি যখন তাঁর সংসদের নেতা তথা প্রধানমন্ত্রীকে তাঁরই মঞ্চে দাঁড়িয়ে চোর বলছেন, তখন শত্রুঘ্নর মতো বলিউডের একজন প্রাক্তন নায়ক ,অধুনা সাংসদের ডিগনিটি খর্ব হয় কিনা বলা কঠিন। তবে এ হেন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়ে বা রাজ্যে তাদের জন্য মঞ্চের আয়োজন করে দিয়ে, মমতার দ্বিচারিতা যে স্পষ্ট হয় তাতে কোনও সন্দেহ থাকে না।
রাজ্য কংগ্রেসের যাঁরা এখনও হাতমার্কা জার্সি পরে জোড়া ফুলের বাগানে গতর খাটাচ্ছেন, তাঁদের আর এই আলোচনায় দরকার নেই। ন্যূনতম নৈতিকতাও যে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অবশিষ্ট নেই, সেখানে এঁরা নিরুপায় , গোবেচারা ঝাঁকের কই ছাড়া আর কিছু নয়।
মুকুলকে বেইমান বলে আর শত্রুঘ্নকে আপ্যায়ন করে একদা কোনও এক মমতার সঙ্গে আজকের মমতা বেইমানি করছেন না তো!
এ প্রশ্নের উত্তর মনে মনে অবশ্যই জানেন মমতা।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *