Home / TRENDING / শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হলেন মুকুল রায়

শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হলেন মুকুল রায়

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।

শত্তুরের মুখে ছাই দিয়ে বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হলেন মুকুল রায় (Mukul Roy)। শনিবার দুপুরে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব নিজেদের সাংগঠনিক রদবদলের তালিকা প্রকাশ। এই তালিকায় দেখা যায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে সর্বভারতীয় সংগঠনে সহ-সভাপতি করা হয়েছে প্রাক্তন রেলমন্ত্রীকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের যাবতীয় একাউন্টে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা (JP Nadda) কেন্দ্রীয় সংগঠনের পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করলেন। এমনটা জানিয়ে তিন পাতার একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা দেশের ১২ জন নেতাকে ১২টি রাজ্য থেকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে স্থান পেয়েছেন মুকুল রায়। উল্লেখযোগ্য ভাবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক সাংগঠনিক পদ ঘোষণা করা হয়েছে দিন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেবলমাত্র প্রাক্তন রেলমন্ত্রীকেই সেই তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে যখন মুকুল রায় তৃণমূল ছাড়েন, সেই সময়ও তিনি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সহ-সভাপতি ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মুকুল রায় ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু, ২০১৫ সালে দলের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হলে তাঁকে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিন্তু কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের মুকুল রায়ের মতো ঝানু নেতাকে সর্বভারতীয় সংগঠন জায়গা দেওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বাংলা রাজনৈতিক মহল। কারণ, কাগজে কলমে জাতীয় পার্টি হলেও পশ্চিমবঙ্গের বাইরে কোনও অস্তিত্ব নেই তৃণমূলের। আর বিজেপি কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় এমনটা নয়, দেশের বৃহত্তর রাজ্যগুলিতেও গেরুয়া পার্টি সরকার। তাই দেরিতে হলেও মুকুল রায়ের সঠিক মূল্যায়ন করেছে বিজেপি, এমনটাই মনে করছে বাংলার রাজনৈতিক মহলের একাংশ।


২০১৭ সালের ৩ নভেম্বর বিজেপি-তে যোগ দেন মুকুল রায়। ২০১৯ সালে তাঁর নেতৃত্বেই লোকসভা ভোটে লড়াই করেছিল বিজেপি। তৃণমূল ভাঙিয়ে সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা নীশিথ প্রামাণিকদের যেমন জোর দিয়েছিলেন বাংলা শাসক দলকে। সিপিএম থেকে খগেন মুর্মুর মতো প্রবীণ নেতাকে তুলে এনে মালদা উত্তরে পদ্মফুল ফুটিয়েছিলেন মুকুল। তাই মুকুলের এই প্রাপ্তিযোগ স্বাভাবিক ছিল বলে মনে করছে বাংলা রাজনৈতিক মহল। একুশের বিধানসভা ভোট ও যে তাঁকে সামনে রেখেই লড়াই করা হবে তাও ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। মুকুলের অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ওপর আস্থা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কয়েক মাস ধরেই তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে বারবার চাউর করা হচ্ছিল, বীতশ্রদ্ধ হয়ে বিজেপি ছেড়ে পুরোনো দলে ফিরতে পারেন মুকুল সহ তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায়। এমন কৌশলী প্রচারের মধ্যেই প্রকাশ্যে এসে তৃণমূলে যোগদানের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়েছিলেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী। এবার মুকুল রায়কে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদে বসিয়ে তেমন আলোচনায় দাড়ি টেনে দিল বিজেপি।

Spread the love

Check Also

বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফেরত নেওয়া হবে : মায়ানমারের তরফে চিনকে আশ্বাস

চ্যানেল হিন্দুস্তান ঢাকা ব্যুরো : চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ই (Wang Yi) বলেন,বাস্তুচ্যুত …

সেরা ৩৬টি পুজোকে সম্মানিত করল কলকাতা পৌর নিগম

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। মাত্র ৯ দিনের মাথায় ঘোষণা করা হল ‘কলকাতাশ্রী’ পুরষ্কার প্রাপকদের নাম। পুরসভার …

নিম্নচাপের জেরে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, ফলে পুজোর ছুটি বাতিল পুরসভার কর্মীদের

চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো। পুজোর ক’দিন বৃষ্টিতে কাটবে বলে আগেই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর (Alipore Weather …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!