দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :
অনেকদিন পর আবার আন্দোলনের আঁতুড়ঘর বঙ্গভূমে ‘বাংলা বনধ’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন ‘কোনও বনধ হবে না।’ এই বার্তায় তাঁর আত্মবিশ্বাস প্রকট হচ্ছে না ধৃষ্টতা তা নিয়ে দ্বিমত আছে। তৃণমূল বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের ব্যক্তি ক্যারিস্মার ওপর আস্থাশীল। তিনি বনধের বিরোধিতা করলে পশ্চিমবঙ্গে বনধ হবে না, এই আত্মবিশ্বাস তাঁর আছে। উল্টোদিকে বিজেপি তো বটেই, নিহতের পরিবারবর্গও মনে করছেন এমন বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর ধৃষ্টতা। মমতার এই ‘বনধ হবে না ‘ মনোভাবের ঠিক উল্টো দিকে যিনি অবস্থান করছেন তিনি মুকুল রায়। তিনি মমতার এ হেন উচ্চারণ কে ইতিমধ্যেই ফ্যাসিবাদী বলে অভিহিত করেছেন। শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র হত্যার ঘটনার পর ডাকা বাংলা বনধকে এক কথায় উড়িয়ে দেওয়ার মনোভাবকে কোনও সুস্থ রাজনীতিক সুলভ মনোভাব বলে মনে করছেন না মুকুল। তাঁর মতে, “মমতার এই কথাতেই স্পষ্ট তিনি পুলিশ দিয়ে বনধ ব্যর্থ করতে চাইছেন।” বনধের সাফল্য বা ব্যর্থতা তিনি ছেড়েছেন মানুষের ওপর। বলেছেন, ‘মানুষ বনধ করবে।’ উল্লেখযোগ্য ভাবে বিজেপি বনধ ডেকেছে সপ্তাহের মধ্যিখানে, বুধবার। এমনিতে এই রাজ্য শুক্রবার অথবা শনিবার কিংবা সোমবার ডাকা বনধ অনেক দেখেছে। প্রয়াত কংগ্রেস নেতা ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি এই ধরনের বনধ সম্পর্কে একটি মজার কথা বলতেন। বলতেন, “শুক্র-শনিবার কিংবা সোমবার ডাকা বনধ নয়, এগুলো হল টানা ছুটি!” এরকম ‘টানা ছুটি’ মার্কা বনধ মমতা নিজেও অনেক ডেকেছেন। রাজ্য থেকে টাটা বিদায়ের পর তিনি যখন সমালোচিত হচ্ছেন বিভিন্ন মহলে তখন বণিক মহলকে নিয়ে আয়োজিত একটি বিজয়া সম্মলনে তিনি ঘোষণা করেন তিনি বনধ চান না। তাঁর এই ঘোষণা সাময়িক হাততালি কুড়োলেও শেষ পর্যন্ত কাজের কাজ কতটা হয়েছে তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন থেকে গেছে। তেমন কোনও শিল্প আজও আসেনি যেখানে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়। সরকারি কর্মচারীদের কর্ম সংস্কৃতি যে ফেরেনি তার হাতে গরম প্রমাণ মাঝেরহাট আর বাগরি মার্কেট। একটি তরতাজা তরুনের প্রাণের বিনিময়ে নেহাৎ ঠেলায় পড়ে এখন ঘটা করে সেতু সমুহের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হচ্ছে আর একের পর এক বেরিয়ে আসছে সেতুর শরীরে লুকিয়ে থাকা মৃত্যুফাঁদ। উন্নয়নের যে উদ্দাম প্রচার চলছে তা নিতাম্তই কসমেটিক। হাসপাতালে পর্যাপ্ত লোক আছে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন আছে। তবে হাসপাতালের সামনে একটি বিশালাকার প্রবেশদ্বার নির্মাণ করে সাজানো হচ্ছে ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে। শিক্ষা ব্যবস্থার হাল আর উল্লেখের প্রয়োজন রাখে না। পুলিশ-প্রশাসনের দলদাস সুলভ চেহারা মমতার শাসন কালে বারবার সামনে এসেছে।
রাজ্যের এমন শ্বাসরোধকারী পরিস্থিতিতে বিজেপি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছে বাংলা বনধকে।
কংগ্রেস ও বামেরা উভয়েই এই বনধের বিরোধিতা করছে। কারন একটাই, বনধ ডেকেছে বিজেপি। তাদের দলীয় অবস্থান থেকে বিজেপির ডাকা বনধ সমর্থন করা সম্ভব নয়।
মুকুল ভরসা রাখছেন মানুষের ওপর। শিল্প আর কর্ম সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে মমতার বনধ বিরোধী অবস্থানকে মেকি বলেই মনে করছেন তিনি। বলছেন,” বিদেশ থেকে বনধের ভাগ্য নির্ধারণ না করে তিনি বরং ফিরে এসে শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন ইউরোপ থেকে কত টাকার বিনিয়োগ আনলেন! নইলে ধরে নিতে হবে তিনি প্রমোদভ্রমণে গেছিলেন।”
বনধ মানেই কি কর্মনাশা?
“বনধ বন্ধ করে মমতার কর্মযজ্ঞের বহর মানুষ দেখছেন। এবার কাজের কাজ করার জন্য মানুষই বনধ সফল করবেন।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news