নিজস্ব সংবাদদাতা
অভিনব দাবি করলেন মুকুল রায়। তাঁর মতে অনুব্রত মণ্ডল যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করে থাকেন নির্বাচনের প্রচারে তা এক নব বঙ্গীয় অভিধানের পান্ডুলিপির জন্ম দিচ্ছে। মুকুলের মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রিয় কেষ্টকে সেই অভিধানের লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠা দেবেন হয়তো। এমনকী কেন্দ্রীয় স্বীকৃতির দাবিও করে বসতে পারেন। ঘটনা মিথ্যে না, পশ্চিমবঙ্গের আমজনতা জানে, অনুব্রতর ‘চড়াম চড়াম’, ‘উন্নয়ণ দাঁড়িয়ে আছে’র মতো অভিনব সব মেটাফোর। অনেকের মতে এ বিষয়ে শঙ্খ ঘোষকে হার মানিয়েছেন মাথায় কম অক্সিজেন ঢোকা তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি, অনেকের মতে ‘মারব এখানে লাস পড়বে শ্মশাণে’র লেখক টলিউডের বিখ্যাত চিত্রনাট্যকার এনকে সলিলকেও চ্যালেঞ্জে ফেলে দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার পুরুলিয়ায় রাজ্য বিজেপির এক সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে মুকুল আরও বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস যেমন সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনের কারণে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে ঠিক তেমনই বলরামপুর তথা পুরুলিয়ার আন্দোলন রাজ্যে আমাদের ক্ষমতায় আসার পথ প্রদর্শক হয়ে উঠছে।
এদিন রঘুনাথপুর মহকুমা শাসকের কাছে দলীয় স্মারকলিপি কর্মসূচিতে যোগ দেন মুকুল রায়। পাশাপাশি সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেখানে তিনি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমালোচনা করে হুঁশিয়ারি দেন আধিকারিকদের। বলেন, জেলা পুলিশ সুপার জয় বিশ্বাসকে আগেই সতর্ক করেছিলাম। আজ তৃণমূলের হয়ে কাজ করেও নিজের পদ আগলে রাখতে পারলেন না। বর্তমান পুলিশ সুপার আকাশ মাঘারিয়াকে ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভাল ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা মুকুল রায়। জেলা শাসক অলকেশ প্রসাদ রায়কে পঞ্চায়েত ভোট-সহ বিভিন্ন কাজে তৃণমূলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুকুল রায় বলেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে কালো তালিকায় ফেলা হবে।
পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগের ঘটনা, ভোট পরবর্তী সময়ে দলীয় কর্মী খুনের ঘটনা নিয়ে বিজেপি মোট চারটি পুস্তিকা তৈরি করছেন বলে এদিন জানান মুকুল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ২০০৩ সালে বিরোধীরা ১১ শতাংশ আসনে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে না পারার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলন করেছিলেন। অথচ, তাঁর আমলে ৭২ জন বিরোধী কর্মীর মৃত্যু হয় এবং ৩৪ শতাংশ আসনে বিরোধীরা মনোনয়ন পত্র জমা না দেওয়ার কারণে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় জয়ী হয় তৃণমূল। এটা তিনি উন্নয়ণের জয় বললেও মানুষ বুঝে গিয়েছেন আসল কথা।
তারপরই অনুব্রত মণ্ডল সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি যে ভাষা প্রয়োগ করছেন তাতে তাঁকে বাংলা ভাষার অভিধান লেখার স্বীকৃতি দেওয়া যেতে পারে। তাঁকে জাতীয় পুরস্কার দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকারের কাছে দাবিদার হিসেবে খাড়া করতে পারেন মমতা। ২০২১ সালে অনুব্রত দেখতে পাবেন রাস্তায় কী উন্নয়ণ দাঁড়িয়ে আছে। সভামঞ্চে এদিন মুকুলের হাত ধরে রঘুনাথপুর শহরের শতাধিক তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগ দেন।
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news