দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় 
রতনে রতন চেনে, মোদি কী চিনলেন মুকুলকে!
হাসিমারায় মোদি-মুকুল সাক্ষাতের পর থেকে রাজ্য রাজনীতির প্রায় সব আড্ডায় এই বিষয়টি উঠেছে। এমনকি সংসদের সেন্ট্রাল হলের আড্ডাও এই এজেন্ডা থেকে বাদ যায় নি!
বিজেপির শীর্ষ মহল বলছে, মুকুলের সাংগঠনিক দক্ষতা ও রাজনৈতিক কুশলতা সম্পর্কে মোদি আগেই লোকমুখে শুনেছিলেন, হাসিমারায় সাক্ষাৎ করে এবার কাছ থেকে মুকুলকে ঠাওরে নিলেন। মুকুল সম্পর্কে মোদির আগ্রহ বুঝেই বিজয়বর্গীয় হাসিমারায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মুকুলকেই বলেছিলেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজ্য সভাপতি যদি অসুস্থতার কারণে না যেতে পারেন, তাহলে কী আর বিজেপিতে নেতা ছিল না! সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন না! রাজ্যের মাটিতে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে মুকুলকে পাঠিয়ে কৈলাস মুকুলের অবস্থানটা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে মোদি-শাহ-বিজয়বর্গীয়, এই ত্রয়ীর কাছাকাছি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে মুকুল তাঁর দক্ষতা প্রমাণেরও একটা বড় মঞ্চ পেলেন। শোনা যায়, অমিত শাহ মুকুলের দেওয়া নির্বাচনী কৌশল দেখে অনেক আগেই মুগ্ধ হয়েছিলেন। কৈলাস ও অমিতের থেকে শুনে মুকুলের চাণক্য বুদ্ধি সম্পর্কে মোদির একটা ধারণা ছিলই। সেই কারণেই স্বাগত জানাতে আসা মুকুলকে উল্টে মোদি নিজেই এক প্রকার স্বাগত জানিয়ে ফেলেন! তাঁর সহাস্য আন্তরিক ব্যবহারে মুকুলও সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলেন।
এরপরেই নিজের ক্যাবিনেটে মুকুলকে সদস্য করে ফেলার সিদ্ধান্ত পাকাপাকি ভাবে নিয়েই ফেলেন মোদি।
মুকুল তাঁর সুচারু রাজনৈতিক মস্তিষ্ক তৃণমূলে বারবার প্রমাণ করেছেন। বিজেপিতেও তিনি তাঁর যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারবেন বলেই মনে করছেন যাঁরা তাঁকে জানেন তাঁরা।
ভবিষ্যৎ বলবে মোদি-অমিত-বিজয়বর্গীয়র গণ্ডিটা আর একটু বাড়িয়ে নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এই বঙ্গজ নিজের জায়গা করতে পারেন কী না! ওই তিনজনের ‘ত্রয়ীর’ বদলে মোদি-অমিত-বিজয়বর্গীয়-মুকুলের চতুষ্কোণ তৈরি হয় কিনা, আর হলেই বা কবে তা দেখতে এখন অনেকেই আগ্রহী।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news