ডম্বরুপাণি উপাধ্যায়:
শোভন চট্টোপাধ্যায় মন্ত্রীত্ব ছাড়ার পরেই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ছিলেন মুকুল রায়। তিনি বলে ছিলেন, ২০০৪-এর পর ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইতে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে ছিলেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় ছিলেন তাঁদের অন্যতম।
রাজনীতির খবর যাঁরা রাখেন তাঁরা জানেন ২০০৪ সাল মানে সেই সময় যখন লোকসভায় তৃণমূলের একজন মাত্র প্রতিনিধি এবং তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে বছর ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশে মমতা স্লোগান তুলে ছিলেন, ‘একের বিরুদ্ধে একচল্লিশের লড়াই / চলো এবার ঘুরে দাঁড়াই।’ অর্থাৎ রাজ্যের মোট ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের মাত্র একটি তৃণমূলের দখলে, বাকি সবগুলিতে বাম আর কংগ্রেস। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ডাক মমতার। কাজটা সহজ ছিল না। এই কঠিন কাজটি যাঁরা সামনে থেকে সংগঠিত করে ছিলেন তাঁদের মধ্যে শোভনও ছিলেন একজন। তৃণমূল পরিবারের প্রাক্তনী মুকুল রায় এই কথাটি পরিস্কার ভাবে বলতে সময় নষ্ট করেননি।
মুকুলের কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল শোভনের গলায়। খুব মৃদু উচ্চারণে, একেবারে তাঁর নিজস্ব ঢঙে শোভন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক প্রকাশ সিংহকে বললেন, ‘পাওয়ার ছিনিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আমারও ভূমিকা ছিল।” বুঝতে অসুবিধা হয় না শোভন ২০১১ সালে বামফ্রন্টের থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার কথাই বলছেন।
মুকুল বলেছেন, শোভন চট্টোপাধ্যায়কে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে শোভন তাঁর মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগপত্রে সেই ‘বাধ্য’ হওয়ার কথাই লিখেছেন।
শোভন-বৈশাখীর সম্পর্ক যেটুকু দেখা যায়, সেখানে প্রেমের আখ্যান লেখার উপাদান খুঁজে নেওয়া গেলেও, তাঁদের সম্পর্ক প্রেমের এমন কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। তাঁদের সম্পর্কে আর যাই থাকুক কোনও রকম অশ্লীলতা যে নেই সে কথা অন্তত নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। মমতার দলেই আড়ালে অনেকে বলেন, পুরনোদের রিজার্ভ বেঞ্চে রেখে নতুনদের মাথায় তোলা নাকি নেত্রীর স্বভাব! ঠিক যেমন সিপিএম থেকে আসা এক বাগ্মী নেতা, যাঁর জিভের খেলা দেখানো বালিশ চাটা ভিডিয়ো কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল, তিনি এখন তৃণমূলে জায়গা করে নিয়েছেন।
স্থান সংকুলান হচ্ছে না শোভনের! শোভন বলেছেন তিনি মুখ খুলবেন। বলবেন কেন পদত্যাগ। নেত্রীর সঙ্গে তাঁর সুখস্মৃতি প্রচুর। সেইসব স্মৃতির মায়া কাটিয়ে কানন কতটা বলে উঠতে পারবেন তা সময়ই বলবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news