নীল রায়।
মুকুল রায়কে দিল্লিতে বাড়ি ছাড়া করতে উঠে পড়ে লেগেছিল তৃণমূল। কিন্তু, বাংলার শাসকদলের সেই প্রয়াস অনেকাংশে ব্যর্থ হল। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে মুকুল রায় তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের থেকে বিশেষ অনুমতি নিয়ে সংসদ সদস্য থাকাকালীন তাঁর জন্য বরাদ্দ দিল্লির ১৮১ নম্বর সাউথ এভিনিউয়ের বাংলোটি ভাড়া নেওয়ার লিখিত আবেদন করেন। যা মঞ্জুর করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অরিন্দম ঘোষ মুকুল রায়ের নামে সংসদ সদস্য না হওয়া সত্বেও দিল্লিতে সরকারী বাংলো বরাদ্দ হওয়া নিয়ে প্রতিবাদ জানান। সঙ্গে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করেন। সম্প্রতি আইনজীবী অরিন্দম ঘোষ রাজ্যসভার সচিব ও হাউজিং মন্ত্রককে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানতে চান। সূত্রের খবর, এই আইনজীবী তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। খালি চোখে বিষয়টি এক আইনজীবীর করা জনস্বার্থ মামলা মনে হলেও, বাংলার রাজনৈতিক মহলের মতে, এই খেলার চাল ঠিক হচ্ছিল কালীঘাটে।
সোমবার কেন্দ্রের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাত দিনের মধ্যে বাংলোগুলি খালি করে দিতে হবে প্রাক্তন সাংসদদের। হাউজিং কমিটির চেয়ারম্যান সি আর পাটিল বলেছেন, ‘‘প্রাক্তন সাংসদদের সাত দিন সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিন দিন পরই বাংলোর আলো এবং জল বন্ধ করে দেওয়ার জন্য অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’ তারপরই তৃণমূল নেতৃত্ব আশা করেছিল নিয়মমাফিক দিল্লিতে সরকারি বাংলায় থাকা হবে না মুকুল রায়ের।
কিন্তু সরকারী সূএ মারফৎ জানা যায়, বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাসগুপ্তের সঙ্গে ১৮১ নম্বর সাউথ এভিনিউয়ের বাড়িতেই মুকুল রায়ের থাকার ব্যবস্থা হয়েছে। রাজ্যসভা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ক্রমেই থাকার সুযোগ পাচ্ছেন মুকুল। তবে তাঁকে দিল্লির বাজার দর অনুযায়ী বাড়ির ভাড়া বিদ্যুৎ ও জলের বিল দিতে হবে। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে আলোচনা, মুকুল রায়কে রাজধানীর বুকে ঘরছাড়া করার তৃণমূলের এই কৌশল ব্যর্থ হল। কারণ সাংসদ পদ হারিয়ে দিল্লিতে মুকুলকে চালচুলোহীন করাই ছিল তৃণমূলের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু সেই প্রয়াস সমূলে ব্যর্থ হয়েছে বলেই দাবি মুকুল ঘনিষ্ঠদের।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news