দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় :
মুকুল কে মমতার বার্তা? আর বার্তাবাহক কুণাল ঘোষ?
সম্প্রতি রাজ্য রাজনীতি তে মাথা চাড়া দিয়েছে এমনই কয়েকটি প্রশ্ন। কয়েকদিন আগে মুকুল রায়ের সল্টলেকের বাড়িতে হঠাৎ করেই হাজির হন কুণাল ঘোষ। খবর রটে যায় তৃণমূলের এক নেতা, যিনি রাজ্যসভার প্রাক্তন সদস্যও বটে, তিনি মুকুল রায়ের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে আরও একটি জল্পনা প্রকাশ্যে আসে। অসমর্থিত খবরে প্রকাশ পায় কুণাল ঘোষ বিজেপির পথে পা বাড়িয়েছেন।
বুধবার চ্যানেল হিন্দুস্তানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বাক্যালাপে কুণাল তাঁর বিজেপি যাত্রার জল্পনায় জল ঢালেন। কিন্তু একই সঙ্গে এমন একটি জল্পনার জন্ম দেন যা রাজ্য রাজনীতি তে আমফান বা নিসর্গের চেয়ে কিছু কম নয়।
এদিন কুণাল বলেন, দিনের বেলা মুকুলদার সঙ্গে আমি দেখা করেছি। এই সাক্ষাৎকার কে কখনওই গোপন বলা যায় না।
চ্যানেল হিন্দুস্তান : ‘আপনি প্রায় দেড় ঘন্টা মুকুল রায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে খবর। কথা বলার সময় ঘরে কি কোনও তৃতীয় ব্যক্তি ছিল?’

কুণাল : “না। ছিল না। আমি মুকুলদার সল্টলেকের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম। ভাবলাম চা খেয়ে যাই। আমি জানতাম বাড়িতে অনেকে থাকবে। তবু আমি যাই। তবে যখন কথা বলি তখন দুজনেই ছিলাম। ওয়ান ইজ্ টু ওয়ান কথা হয়েছে। ঘরে যারা ছিলেন আমাদের কথা বলার সময় তাঁদের বাইরে যেতে বলা হয়।”
চ্যানেল হিন্দুস্তান : আপনি বিজেপি তে যোগ দিচ্ছেন বলে জোর জল্পনা।
কুণাল : মুকুলদার সঙ্গে আর যে কারণেই দেখা করি না কেন, আমার বিজেপিতে যাওয়ার সঙ্গে এর আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই।
আমি তৃণমূলে আছি। থাকছি।
যার সভানেত্রী মমতা।
এবং আমার অভিষেককে ভালো লাগছে।
চ্যানেল হিন্দুস্তান : তাহলে কি নিয়ে কথা হল? হঠাৎ করে কেন গেলেন? সাম্প্রতিক কালে আপনার লেখায় ও কথায় মুকুল রায়ের কড়া সমালোচনা শোনা গেছে। যদি বলেন সৌজন্য করতে গেছিলেন, তাহলে সৌজন্যের দরকারই বা কেন হল?

কুণান : আমি আর যে কারণেই কথা বলি
আমার বিজেপি যাওয়া নিয়ে নয়।
আর আমার মামলা সংক্রান্তও কিছু নয়।
বাকি জানি না।
চ্যানেল হিন্দুস্তান : ধরেই নিলাম আপনি বিজেপি তে যোগ দেওয়ার জন্য কোনও কথা মুকুল রায়ের সঙ্গে বলতে যান নি। তাহলে কি অন্য কোনও বার্তা নিয়ে মুকুল রায়ের কাছে গেছিলেন?
কুণাল : অন্য কি বার্তা?
চ্যানেল হিন্দুস্তান : মুকুল কে ঘরে ফেরানোর বার্তা?
কুণাল : এই নিয়ে আমি কিচ্ছু বলব না। আমি কিছু জানিই না।

কুণালের এই ‘কিচ্ছু বলব না’ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না তাঁর বলার মত অনেক কিছুই আছে। মুকুল কে ঘরে ফেরানোর বার্তা প্রসঙ্গে কুণালের উত্তর খুবই রহস্যজনক। ইচ্ছে করলেই তিনি বলতে পারতেন, ‘না এমন কোনও বার্তা মমতার দিক থেকে নেই।’ তা বলেন নি কুণাল। তিনি বলতে পারতেন যে তিনি এমন কিছু জানেন না। তিনি তা বলেননি, তিনি বলেছেন, তিনি বলবেন না। আর তাঁর এই উত্তরই রাজ্য রাজনীতি তে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যে জল্পনার নাম ‘মুকুলকে ফেরাতে মমতার বার্তা’।
এমনিতে একুশের আগে তৃণমূল কে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে লাগাতার চেষ্টা করছেন কয়েকজন নেতা। পিকে-র কৌশল শেষ পর্যন্ত ক্লিক করবে কি না, তাই নিয়েও এখন অনেকে সংশয়ে আছেন। দলের অনেক সিনিয়র নেতা না না ভাবে অসম্মানিত হয়েছেন বা হচ্ছেন বলে শোনা যায়। এমন ঘটনা সব দলেই ঘটে, এই ভেবে কেউ কেউ অপমান হজম করছেন, কেউ হজম করতে পারছেন না। এই অবস্থায় ভাড়া করা কোনও পেশাদার ভোট কৌশলী দলকে পার করতে পারবে নাকি স্বভাব-ভোট কুশলী মুকুলই শেষ পর্যন্ত অগতির গতি, এই নিয়ে দলের মধ্যেই রয়েছে প্রশ্ন। এমতাবস্থায় মুকুলকে দলে ফেরানোর প্রশ্নে কুণালের ‘আমি জানি না’ সামগ্রিক পরিস্থিতি তে ভিন্ন মাত্রা যোগ করছে।
যদিও যাঁকে ঘিরে এত জল্পনা সেই মুকুল রায়ের সঙ্গে এদিন ফোনে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয় নি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news