Breaking News
Home / TRENDING / এ যেন মুকুলার্জুন! দীর্ঘ বৈরিতা ভুলে পদ্মাসনে হাসি মুখে দুই চ্যলেঞ্জার

এ যেন মুকুলার্জুন! দীর্ঘ বৈরিতা ভুলে পদ্মাসনে হাসি মুখে দুই চ্যলেঞ্জার

নীল রায়:

একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ হল! জন্ম হল এক নয়া বৃত্তের। এমন কথা বলাই যায় মুকুল রায় ও অর্জুন সিংহের নাটকীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে। একসময় একই দলের সদস্য হয়েও পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধংদেহি ছিলেন মুকুল-অর্জুন। ঘটনাচক্রে দু’জনেরই ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল থেকে রাজ্য রাজনীতিতে আত্মপ্রকাশ। এক সময় দু’জনেই ছিলেন তৃণমূলে, আর বর্তমানে একসঙ্গেই তাঁরা বিজেপিতে। ২০১২ সালে বিটি‌ রোডে অর্জুন সিংহ আক্রান্ত হন দুষ্কৃতীদের হাতে। সরাসরি অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তাকে হত্যার চক্রান্ত করেছে। আবার মুকুলের বিজেপিতে যোগদানের পরে, অর্জুনের বিরুদ্ধে মুকুল অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের বিরুদ্ধে অর্জুন ষড়যন্ত্র করছে। এর মাঝে অবশ্য আদিগঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। এবং এদিন সেই অর্জুন সিংহকে মহাভারতের অর্জুনের সঙ্গে তুলনা করে দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের অফিসে স্বাগত জানালেন স্বয়ং মুকুল রায়।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২ নভেম্বর বিজেপিতে নাম লেখান মুকুল রায়। শোনা যায়, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দা মুকুলবাবুকে জব্দ করতে অর্জুনকে হাতিয়ার করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে অর্জুনকে দেওয়া হয় জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তাও। এদিকে নোয়াপাড়া উপনির্বাচনে তৃণমূলের মঞ্জু বসুকে বিজেপি প্রার্থী করেছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু অর্জুনের দাপটে নাম ঘোষণার পরেও পিছিয়ে যান মঞ্জু। যার জেরে বিজেপির অন্দরে অসম্মানিত হতে হয় মুকুল রায়কে। কিন্তু “বিধির বিধান” কেউ বলতে পারে না আগে থেকে। তাই দেখা যায়, লোকসভা ভোটের প্রায় এক বছর আগে থেকেই নিজের মনোবাসনার কথা ব্যারাকপুর লোকসভা এলাকার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বলতে শুরু করেন অর্জুন সিংহ! বার্তা পৌঁছেছিল তৃণমূল সুপ্রিমোর কানেও। যদিও তিনি এতটাও ভাবেননি যে অর্জুন বিজেপিতে যোগ দেবেন। তবে প্রার্থী ঘোষণার কদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী টের পান অর্জুনের ক্ষোভ বাড়ছে। ততক্ষণে ভাটপাড়ার অর্জুনের গাণ্ডিব থেকে তির বেরিয়ে গিয়েছে দিল্লির দিকে। চূড়ান্ত কথা হয়ে গিয়েছে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় ও মুকুল রায়ের সঙ্গে।

প্রসঙ্গত, মুকুল-অর্জুন বিবাদের কথা জানত গোটা রাজ্য রাজনীতি। সেই মুকুলই তৎপর হয়ে ওঠেন অর্জুন সিংহকে গেরুয়া শিবিরের ছত্রছায়ায় নিয়ে যেতে। ১২ মার্চ, যেদিন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়, সেদিন সকালেই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে চূড়ান্ত কথাবার্তা সেরে ফেলেন ভাটপাড়ার চার বারের বিধায়ক। তার আগে অবশ্য নবান্নে নিজের ঘরে দীনেশ ত্রিবেদী ও অর্জুন সিংহকে মুখোমুখি বসিয়ে বোঝাপড়ার একটা শেষ চেষ্টা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‌ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, লোকসভা ভোট শেষে ৫ জুনের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী পদে বসানো হবে অর্জুনকে। কিন্তু বুধবার দুপুরে শেষবারের জন্য কালীঘাটে যান ভাটপাড়ার দাপুটে বিধায়ক। নেত্রীকে শেষ নমস্কার জানিয়ে গেরুয়া শিবিরে যাওয়ার কথা জানিয়েই কালীঘাট ছাড়েন তিনি। সে সময় হয়তো অন্তরালে মমতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ের হাসি হাসছিলেন মুকুল রায়!

অতএব, বৃহস্পতিবার দিল্লির বিজেপি কার্যালয়ে এক বৃত্ত সম্পূর্ণ হল, এবং শুরু হল আরও এক নয়া বৃত্তের। এবার আর বৈরিতা না। বরং অর্জুন-মুকুল সম্পর্কের নতুন পথচলা শুরু হল প্রসন্ন পদ্মফুল হাতে।

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *