মূল হিন্দি রচনা : শরদ জোশী
অনুবাদ : পার্থসারথি পাণ্ডা
এক
সেদিন দুম করে নেতাটি গেল মরে। ব্রেনের নার্ভ ফেটে। অনেক বছর ধরেই সে এই এলাকায় দাপিয়ে লিডারি করছিল। তবে এই যে মরে গেল, সেটা কিন্তু তার নিজেরই দোষে। কী দরকার ছিল বাপু তোমার দেশের জন্য এত ভাবার, যাতে কিনা ব্রেনের নার্ভই ফেটে যায়! নেতার একটি ছেলে আছে। লোকেরা সেই ছেলেকে জিজ্ঞেস করল, ‘কিছু রেখে গেছে বাবা?’
ছেলে বলল, ‘হুঁ। ভোটের টিকিট!’
লোকেরা আবার জিজ্ঞেস করল, ‘ভোটের আগে চাঁদার টাকা কতটা তুলে গেছে?’
ছেলে বলল, ‘কিছু তুলে গেছে, এখনো অনেকটাই বাকি আছে।’
সন্ধ্যার শোকসভায় মৃত নেতার চামচারা নেতার ছবিতে মালা দিয়ে বলল, ‘উনি যে কাজ শুরু করে গেলেন, আমাদের কোমর বেঁধে সেই কাজ শেষ করতে হবে!’
দুই
জমিজমার দখল নিয়ে দুই গাঁয়ের মধ্যে হামেশাই ঝগড়া লাগে। কিন্তু ভোটের মুখে ঝগড়া লাগল একটা পুকুর নিয়ে! পুকুরটা পানায়-আবর্জনায় একেবারে যাচ্ছেতাই। তবু সেই পুকুরটা নিয়ে ঝগড়া করার যথেষ্ট কারণ ছিল। কংগ্রেস পুকুরটা দখল করার সবরকমের চেষ্টা চালাচ্ছিল। আর বিজেপি তৈরি ছিল তাদের সবরকমভাবে প্রতিরোধ করতে। কংগ্রেসকে পুকুর দখল করতে তারা কিছুতেই দেবে না!
খবরের কাগজের এক সম্পাদক তার সাংবাদিককে খোঁজ নিতে পাঠালো সেই গ্রামে, গণ্ডগোলের কারণটা ঠিক কোথায়! অচিরেই জানা গেল, তেমন কিছু না–আসলে পুকুরে অনেক পদ্মফুল ফুটেছে; ভোটের আগে বিজেপি সেগুলো বাঁচাতে চায়, আর কংগ্রেস চায় উপড়ে ফেলতে!
তিন
এক কনস্টেবল হঠাৎ দেখতে পেল, চুপিচুপি একটা লোক পাইপ বেয়ে একটা বাড়ির ব্যালকনির দিকে উঠছে। অমনি সে পাড়ার লোক জুটিয়ে বেশ হৈহল্লা করে লোকটাকে নীচে নামাল এবং তাকে ধরে সোজা থানায় নিয়ে গেল।
থানায় ইন্সপেক্টর পরের বাড়িতে এভাবে চোরের মতো ঢুকতে চাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করতেই লোকটা জবাব দিল, ‘ও বাড়ির মহিলাদের সঙ্গে জনসংযোগ করতেই তো পাইপ বেয়ে উঠছিলুম, আপনি হয়তো জানেন না, আমি অমুকপার্টির নেতা!’
চার
কাল বেশ মজার ঘটনা ঘটল একখানা। শহরের স্বনামধন্য নেতা আনোখালালজীকে তো আপনারা সবাই জানেন, চেনেন। তবে এটা হয়তো অনেকেই খেয়াল করেননি যে, উনি কিচ্ছু মনে রাখতে পারেন না! যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন জনগণকে দেওয়া কোন কথাই মনে রাখেননি। সেও আনোখালালজী কাল প্রেস কনফারেন্স ডেকে ঘোষণা করলেন, ‘আমি অমুক দিন বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে জয়েন করছি।’
তখন সাংবাদিকরা মুচকি হেসে তাঁকে মনে করিয়ে দিলেন, ‘দাদা, অনেকদিন হল আপনি তো কংগ্রেসেই আছেন!’
পাঁচ
নির্বাচনের তারিখ-টারিখ সব ঘোষণা হয়ে গেছে, এমন সময় এক বেকার মুসলিম খুব আতান্তরে পড়ল। যে কোন একটা চাকরি পেলেই সে বর্তে যায়। রাজনৈতিক পার্টিঅফিসগুলোতে চাকরির আশায় যাতায়াত শুরু করল। কিন্তু কোথাও যখন কাজ পেলো না, তখন সে বিজেপির পার্টি অফিসে একদিন হাজির হল। বিজেপি তাকে কাজ দিয়ে ভোটের প্রচারে লাগিয়ে দিল। ঘরে ফিরে বেকার মুসলিম তার বিবিকে বলল, ‘পাকা কাজ নয়, দু’এক মাস চলবে, দরকারের সময় তাই বা মন্দ কি!’
কপালে পবিত্র তিলকআঁকা আর পবিত্র ধুতিধারী কয়েকজন পবিত্র ভোট-প্রচারক পুকুরের ধারে হয়রান হয়ে দাঁড়িয়ে। তারা অপেক্ষা করছে সেই নীচু জাতের সাহসী সদস্যের জন্য, যে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পদ্ম তুলে আনবে; ভোট-প্রচারের জন্য তুলে দেবে তাদের হাতে!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news