প্রসেনজিৎ মাহাতো :
ডার্বির পরের দিন সোমবার সকালে পিন্টুর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন অমিয়। কিন্তু, তিনি কোনওভাবে জানতে পারেন, পিন্টু সোমবারের সকালে জঙ্গলমহলে নিজের বাড়িতে যাবেন। বাবা–মায়ের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু, দুপুরের দিকে পিন্টুর ছোটবেলার কোচ জানতে পারেন, না, পিন্টু জঙ্গলমহল যাননি। রয়েড স্ট্রিটে মোহনবাগানের মেসেই রয়েছেন।
শিষ্যর সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করতে পারছেন না। অগত্যা বেহালা থেকে ট্যাক্সি চেপে মোহনবাগান মেসে আসেন অমিয়।
কলকাতা ময়দানে ছোটদের বড় কোচ অমিয় চেহারায় বয়স এখন থাবা বসিয়েছে। ৭৫ ছুঁইছুঁই বয়সেও মেসের ৬১ সিড়ি ভেঙে চার তলায় উঠে অপমানিত হতে হল! দায়িত্বে থাকা মেসের কেয়ারটেকার সাফ জানিয়ে দেন, পিন্টু এখন ঘুমোচ্ছে। এখন ওঁর সঙ্গে দেখা করা যাবে না।’ তা শুনে কিছুটা বিস্মিত হন অমিয়। মন কিছুতেই মানতে চাইছিল না তঁার। কলিং বেল বাজিয়ে আরও একবার অনুরোধ। ফের দরজা খুলল। এবার দরজার অপর প্রান্ত থেকে জবাব এল, ‘কর্তাদের বারণ আছে। প্লিজ, ওর সঙ্গে দেখা করা যাবে না।’ ডার্বিতে গোল করে এখন নায়কের সম্মান পাচ্ছেন পিন্টু। নেইমারের বিরুদ্ধে খেলা বিশ্বকাপারকে টপকে গোল করেছেন। পিন্টুকে নিয়ে চারিদিকে হইচই হচ্ছে। পিন্টু যতই তারকা হন, ‘গুরু’ অমিয়র স্মৃতি আটকে রয়েছে পিন্টুর ছোটবেলায়। হাওড়া ষ্টেশনে রাত কাটাতে না দিয়ে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রেখেছিলেন অমিয়। সেই শিষ্য আজ ‘তারা’ হওয়ার পর একটা বারের জন্য সাক্ষাৎ পেলেন না! বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না অমিয় ঘোষ। মেসের বন্ধ দরজার সামনে দাঁড়িয়েই বলছিলেন, ‘ওকে ফোনে পাচ্ছি না। তাই দেখা করতে এসেছিলাম। দেখা করতে পারলাম না। খারাপ লাগছে।’
মেসের বন্ধ ঘরে থেকে পিন্টুরও হয়তো খারাপ লেগেছে স্যরের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে। কিন্তু, পিন্টুই বা কী করবেন? যদি ক্লাব কর্তাদের তরফে মেসের কর্মীদের কাছে স্পষ্ট নির্দেশ থাকে, পিন্টুর সঙ্গে কাউকে দেখা করতে না দেওয়ার। বাগান কর্তাদের এই কাজকে অসভ্যতামি ছাড়া আর কীই বা বলা যায়? বাগানের ফুটবল সচিব স্বপন ব্যানার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, ‘পিন্টু আজ কারর সঙ্গে কথা বলবে না। ডার্বি জিততে না পারায় ওর প্রচণ্ড মন খারাপ। ও কোনও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবে না।’ অমিয় বলেন, ‘বেহালা থেকে ছুটে এলাম। একটা বারের জন্য দেখা করব বলে। ও ডার্বিতে দারুণ খেলেছে। ম্যাচের আগে বলেছিলাম, কোচ যা বলবে সেটাই করতে। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে।’ প্রাক্তন স্যরের কথা রেখেছেন পিন্টু। সব ঘটনা শুনে সচিব অঞ্জন মিত্র বলেন, ‘অন্যায় হয়েছে। মেসের কেয়ারটেকার ভুল করেছে। আমি খোঁজ নিচ্ছি। তারপর আলোচনা করে কী করা যায় দেখব।’ পিন্টুর গুরুর অপমানিত হওয়ার দিনে এটুকু বলেই নিজের দায় সারলেন অঞ্জন মিত্র।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news