Breaking News
Home / TRENDING / মোদির সভা : বিপর্যয়ে নিরুত্তাপ ছিলেন পুলিশ কর্তারা

মোদির সভা : বিপর্যয়ে নিরুত্তাপ ছিলেন পুলিশ কর্তারা

মেদিনীপুর থেকে ফিরে নীল বণিক :

তখন আর বৃষ্টি পড়ছে না। সবে প্রধানমন্ত্রী সভা মঞ্চে ভাষণ শুরু করেছেন। আমরাও সাংবাদিকদের জন্য তৈরি নির্দিষ্ট প্যান্ডেলে জমিয়ে বসেছি অ্যাসাইনমেন্ট করতে। মঞ্চের সব প্রান্ত থেকেই জনতার মোদি, মোদি আওয়াজ ভেসে আসছে। তার সঙ্গে পেশাগত দায়বদ্ধতায় আমি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ লিখতে ব্যস্ত। হঠাৎ প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম বক্তৃতা থামিয়ে মঞ্চের বাঁদিকে অদূর দৃষ্টি দিয়ে কি যেন একটা লক্ষ্য করছেন। আমিও সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্য। লোহার প্যান্ডেলের শামিয়ানাটা যেন আস্তে আস্তে ভেঙে পরছে। সবার মুখে তখন আতঙ্কের ছাপ। আমার মনে হল এবার বুঝি সাংবাদিকদের লোহার তৈরি প্যান্ডেলের অংশও ভেঙে পরবে। তেমন অবশ্য কিছু হল না। প্রধানমন্ত্রী মাইকে তখন বলছেন দলের স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার করুন। বিজেপির তরুন স্বেচ্ছাসেবকেরা সঙ্গে সঙ্গে হাত লাগালেন উদ্ধার কার্যে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটামুটি মিনিট দশেকের মধ্যে প্রায় সবাইকে উদ্ধার করলেন তাঁরা। মঞ্চের সামনে তখন রাজ্য পুলিশের দুই আইপিএস অফিসার সব কিছু দেখছেন। কিন্তু তাঁরা শুধুই দেখলেন। কোথাও কোনও নির্দেশ দেওয়া হল না। উদ্ধার কার্যের সময় কোথায় দমকল? বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী? রাজ্য পুলিশের উচ্চ পদস্থ কর্তারা? সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন, ভাব যেন এটাই স্বাভাবিক। তবে রাজ্য পুলিশের মধ্যে ব্যতিক্রমও চোখে পড়ল আমার। সিভিক পুলিশের কয়েকজন যুবক নির্দেশের তোয়াক্কা না করেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন উদ্ধার কার্যে। রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা দূরে রেখে সিভিক তরুনরা উদ্ধার কার্যে নামলেন। এরমধ্যেই কয়েকজন বিজেপির ভলেন্টিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে ফের বক্তৃতা শুরু করার জন্য অনুরোধ করেন। প্রধানমন্ত্রী ফের বক্তব্য শুরু করেন। তারপর শেষ করে দলের আহত কর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান। সভা শেষ হতেই রাজ্য বিজেপির নেতারাই ঘোষণা করতে শুরু করেন সভাস্থল ফাঁকা করতে। তখন কয়েকজন নিচু তলার পুলিশ কর্মীকে দেখা গেল সভাস্থল ফাঁকা করাতে এগিয়ে আসতে। সেই সময়েও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের মধ্যে গা ছাড়া ভাব। তারা ময়দানে নামলে রাজ্য বিজেপি নেতাদের প্রায় একঘন্টা গলা ফাটিয়ে সভাস্থল ফাঁকা করার জন্য অনুরোধ করতে হত না। বিজেপির ভলান্টিয়ারদের হাত জোড় করে অনুরোধ করতে হত না সভাস্থল খালি করার। সভাস্থল খালি হতেই আমি ছুটলাম হাসপাতালের উদ্দেশ্যে। কাদা ভর্তি মাঠে তখনও ছড়িয়ে শয়ে শয়ে জুতো। হাসপাতালে কাজ সেরে রওনা হলাম কলকাতার পথে। মনে রয়ে গেল বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে কয়েকজন উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্তার গা ছাড়া ভাব আর তরুন সিভিক ভলান্টিয়ারদের রাজনীতির উর্দ্ধে গিয়ে মানবিকতার লড়াই।

বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

https://www.youtube.com/channelhindustan

https://www.facebook.com/channelhindustan

Spread the love

Check Also

Big Breaking: হুমায়ুনকে ওয়েসির ‘ফিলার,’ কী উত্তর দিলেন তৃণমূলের বিধায়ক

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুনকে ওয়েসির ফোন! দল তাঁকে শো-কজ করেছে। তিনি সেই শো-কজের উত্তরও দিয়েছেন। তাতেও …

রাহুলের পাইলট প্রোজেক্ট, মুর্শিদাবাদ কংগ্রেসে আধিপত্য হারাতে পারেন অধীর

দেবক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে রাহুল গান্ধির নতুন উদ্যোগে মুর্শিদাবাদের কংগ্রেস রাজনীতিতে খর্ব হতে পারে অধীর …

আমি আসছি! নাম না করে শুভেন্দুকে শাসালেন আনিসুর

চ্যানেল হিন্দুস্থান, নিউজ ডেস্ক: নাম না করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারিকে শাসালেন আনিসুর রহমান। একদা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *