নীল রায় :
কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট ঘুরছে। জ্যোতিবাবুর ছবি ও তাঁর একটি উক্তি সম্বলিত একটি পোস্ট। উক্তির মূল বক্তব্য, বাজারি সংবাদ মাধ্যম ও অন্যান্য কিছু মহল শ্রমিক ও দিনআনি দিনখাই মানুষের অসুবিধার কথা ভাবছে এমন ভাব দেখিয়ে বনধের বিরোধিতা করে। কিন্তু বছরের বাকি দিনগুলোতে শ্রমিক তথা খেটে খাওয়া মানুষের খবর রাখে না।
ফেসবুকে এই পোস্ট যখন ঘুরছে তখনই বৃহৎ বাজারের ছোট বিক্রেতা, রিক্সাচালক, টোটো চালক, ছোট দোকানদাররা বলছেন, বনধ করে লোকসান তো তাঁদের। তাঁদের কথা কে ভাবে! সিএএ নিয়ে প্রচার ও অপপ্রচারের মধ্যে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের এইটুকু বুঝতে বাকি নেই যে কারন আর যাই হোক তাদের কথা ভেবে বাম কংগ্রেস বনধ ডাকছে না।
মানুষের নাড়ি বোঝা মমতার মানুষের এই মনোভাব বুঝতে অসুবিধা হয় নি। তাঁর সমালোচকরা বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকে অনেক বদলেছেন মমতা। তবে যতই পাল্টে যান তিনি, অন্তত একটি ব্যাপারে মমতার মত এখনও বদলায়নি। ক্ষমতায় আসার কিছু আগে একটি বণিক সভায় কথা দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এলে বনধ ডাকবেন না। আজও ডাকেননি। তাতে করে বাণিজ্য- ছবির তেমন বদল না হলেও কথায় অনড় আছেন মমতা। বাম-কংগ্রেসের ডাকা বনধের বিরোধিতা করে তিনি তাঁর পুরনো অবস্থানেই অনড় রইলেন। একই সঙ্গে মোদী বিরোধী আন্দোলনে একমাত্র মুখ যে তিনি, কথার ঝড়ে সেটাও বুঝিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
বুধবার গঙ্গাসাগর থেকে কলকাতা আসার জন্য হেলিকপ্টারে ওঠার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানেই বাম সমর্থিত ট্রেড ইউনিয়ন ও কংগ্রেসের (Congress) ডাকা বনধ নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এনপিআর, এনআরসি ও ক্যা নিয়ে আমাদের আন্দোলন চলছে চলবে। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা মিটিং মিছিল করে আন্দোলন করছি। সিপিএম এখানে ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে। ট্রেনের নিচে বোমা রেখে কোনও আন্দোলন হয় না।” তিনি আরও বলেন, “জেএনইউতে ছাত্রছাত্রীদের ওপর আক্রমণ হয়েছে আমরা প্রতিবাদ করেছি। প্রতিনিধি পাঠিয়েছি। লখনউতেও প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলাম। এখানে, এবং যেখানে আমাদের ক্ষমতা রয়েছে সেখানে সেখানে আমরা প্রতিবাদ করেছি। সিপিএমের তো দিল্লিতে একটি পার্টি অফিস রয়েছে বড়। সেখানে তো বনধ করতে যায়নি। আছে ক্ষমতা ওখানে কিছু করার?” বামফ্রন্টের শ্রমিক ইউনিয়নের নামে বনধের ডাক দেওয়া হলেও আসলে যে তার চালিকাশক্তি সিপিএম, তা ভালোই বোঝেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই এদিন সরাসরি সিপিএমকেই (CPM) আক্রমণ করেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্যা, এনআরসি, ও এনপিআর নিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়ে আসলে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপি (BJP) বিরোধী আন্দোলনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকেই তুলে ধরেছেন। জানিয়েছেন জাতীয় স্তরে যখনই কেন্দ্রীয় সরকার জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখনই তিনি সাধ্যমত প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছেন নিয়মিতভাবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন “সরকারে থেকে আন্দোলন করছি। এটা করতে বুকে সাহস লাগে। মিটিং-মিছিল করুন কে বাধা দিয়েছে? কিন্তু অশান্তি করে আগুন লাগিয়ে আন্দোলন করতে দেব না।”
মমতা বলেন, “এরা বছরে চারটে করে বনধ ডাকে সস্তার জনপ্রিয়তা পেতে। এদের রাজনৈতিক ভাবে মৃত্যু হওয়া প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “পারলে আমাদের মতো আন্দোলন করুক। গুন্ডামি করে কোনও আন্দোলন হয় না। সাধারণ মানুষের অসুবিধে করছে কেন? এর থেকে কেরলের সিপিএম ভাল। তবু ওখানে কিছু মতাদর্শ বেঁচে আছে।” মমতার কথায়, “সিপিএমকে দেখে আমার খারাপ লাগছে এই জন্য যে, ওদের আদর্শ বলে আর কিছু নেই। যদি ন্যূনতম আদর্শবোধ থাকত তাহলে ট্রেন লাইনের নীচে বোমা রেখে গুন্ডামি করত না।”
সর্বভারতীয় স্তরে বাম তো নয়ই, সনিয়া-রাহুলও নয়। মোদির সঙ্গে লড়াইটা মমতার। এদিনের ঝোড়ো সাংবাদিক বৈঠকে এই কথাটাই মুখে উচ্চারণ না করে বারবার বলে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news