নীল রায়:
প্রতিপক্ষ গেরুয়া শিবিরের চাপে বেড়ে গেল মমতার প্রচারসভার সংখ্যা।
উল্লেখ্য, যত দিন যাচ্ছে ততই প্রচারসভার সংখ্যা বাড়াতে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বুধবার দলের ইশতেহার প্রকাশ করে নিজের প্রচারসূচি প্রসঙ্গে জানান তিনি। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত প্রচারে অংশ নেবেন। রাজ্য জুড়ে ৪২ টি কেন্দ্রে ১০০ টিরও বেশি জনসভা করবেন বলে সাংবাদিক বৈঠকে মন্তব্য করেন মমতা। দিন কয়েক আগে পর্যন্ত তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছিল, যে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে দুটি করে জনসভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ৪২টি কেন্দ্রে দুটি করে সভার অর্থ সভার সংখ্যা ৮৪। কিন্তু নতুন ঘোষণা অনুযায়ী সেই সংখ্যা ১০০ ছাড়াতে পারে। অর্থাৎ গড়ে ২.৩৮ শতাংশ সভা বরাদ্দ হয়েছে প্রত্যেক লোকসভা কেন্দ্রের জন্য।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ২২৭টি জনসভা করেছিলেন মমতা। যেখানে রাজ্যের বিধানসভার সংখ্যা ২৯৪। আর মাত্র ৪২টি লোকসভা আসনের জন্য ১০০-র বেশি জনসভা! তৃণমূল নেত্রী যে চাপে পড়েছেন, এ তারই ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ, এবারের নির্বাচন যুদ্ধ যদি গতবারের তুলনায় কঠিন না হত, তাহলে একশোরও বেশি জনসভা করার পাশাপাশি মোবাইলেও বিভিন্ন জনসভায় বক্তৃতা রাখার কথা বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে বলতেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, আগামী ২ এপ্রিল ব্রিগেড থেকে বাংলার জনসভা কর্মসূচি শুরু করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই দিন শিলিগুড়িতে আরও একটি জনসভা রয়েছে তাঁর। জানা গিয়েছে, পরে সাত দফার ভোটে কমপক্ষে আরও ৯ বার এরাজ্যে প্রচারে আসবেন। সঙ্গে অমিত শাহ, যোগী আদিত্যনাথের মত শীর্ষ বিজেপি নেতারাও। মমতার ক্ষেত্রে প্রথমে ঠিক হয়েছিল ২৫ মার্চ থেকে জনসভা কর্মসূচি শুরু হবে। পরে তা বাতিল করে ২ এপ্রিল করা হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সূচি দেখা বোঝাই যাচ্ছে যে তিনি নরেন্দ্র মোদির কৌশল তথা আক্রমণের রণনীতি দেখে পা ফেলতে চাইছেন মমতা ময়দানে। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, মমতার মত বিচক্ষণ রাজনীতি বুঝে গিয়েছে বাংলায় এবার তাঁর মূল প্রতিপক্ষ গেরুয়া ব্রিগেডই। তাই তাদের প্রচার কৌশল দেখেই নিজের রণনীতি ঠিক করছেন এবং করবেন তিনি। মমতার এহেন কর্মসূচি প্রসঙ্গে রাজনৈতিক মহলের মত, নরেন্দ্র মোদির প্রচার প্রসঙ্গে ধারণা রয়েছে মমতার। তাই তাঁর প্রচারের মোকাবিলা করতে মোদির জনসভাগুলির দিকে নজর রেখেই একটি লোকসভা এলাকায় কমপক্ষে দুই বা তার বেশি জনসভা করে ভোটের জমি তৈরি করতে চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁর এই কৌশল কতটা কাজে দেবে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। কারণ, বারবার প্রচার কর্মসূচি বদলে আখেরে তৃণমূল নেতৃত্বের আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিই নজরে পড়ছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news