চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
মিষ্টি একরত্তি মেয়েটা। খেলে বেড়ায় মেডিকেল কলেজের শিশুবিভাগে। যাবেই বা কোথায় ? বাড়ি ঘর কিছুই যে নেই ওর। জন্মেছিল ক্যান্সার নিয়ে। তাই দেখে বাবা-মা হাসপাতালেই ফেলে রেখে পালিয়েছিল। দুধের শিশুর আকুল কান্নায় চোখ ভিজে গিয়েছিল ওই বিভাগে ডিউটিরত নার্সদের। বুকে তুলে নেন মেয়েটিকে তাঁরা। আদর করে নাম দেন মিনু। ওঁরাই ছিল মিনুর মা। আর হাসপাতালে ওই বিভাগে কাজ করা পুরুষরা ছিলেন মিনুর বাবা। এক মা-বাবা ছেড়ে গেলেও অজস্র ভালবাসার হাত জড়িয়ে ধরেছিল মিনুকে। এই সবই বছর দু’য়েক আগের কথা।
চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মিনু এখন সুস্থ। কিন্তু অল্পদিনের এই সুখও সইল না মেয়েটার কপালে। যে মেডিকেল কলেজ তিন বছরের মেয়েটার বাড়ি ঘর ছিল এবার ছাড়তে হল সেটাও।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মেডিকেলে এখন সাজ সাজ রব। আমূল পালটে মেডিকেল এখন হয়েছে করোনা হাসপাতাল। শুধুমাত্র করোনা রোগীদের জন্যই বরাদ্দ হাসপাতালের বেডগুলি। এমন সংক্রামক রোগের চিকিৎসা হবে যেখানে সেখানে কি এইটুকু বাচ্চাকে রেখে দেওয়া যায় ? সরকারি নির্দেশে মিনুর ঠাঁই হল হোমে।বুধবারই মিনু ছেড়ে গেল তার পুরনো পরিবার। সুন্দর করে তাকে সাজিয়ে দিয়েছিল তার নার্স মায়েরা। মেয়েকে বিদায় দিতে গিয়ে কেঁদে ফেললেন তাঁরা ।
চেনা মুখ, নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে নতুন রাস্তায় হাঁটা শুরু করল মিনু। শুরু হল নতুন লড়াই। বারবার ঠাঁইনাড়া হওয়ার যন্ত্রণা বুঝেছিল বোধহয় এতটুকু মেয়েটাও। তাই বুঝি ম্লান মুখে বারবার ফিরে তাকাচ্ছিল পুরনো আশ্রয়ের দিকে। করোনা যে বদলে দিল কতকিছু !! ওইটুকু বাচ্চা একবার ক্যান্সারে হারাল জন্মদাত্রী মাকে আর একবার করোনা কেড়ে নিল আশ্রয়।সবটাই বড় অনিশ্চিত এখন। অ্যাসিস্টান্ট সুপারের হাত ধরে যখন চলে যাচ্ছে মিনু ঠোঁটদুটো কেঁপে গিয়েছিল তার নার্স মায়ের। মনে মনে বোধহয় তিনি বললেন, ‘সব বিপদ কাটিয়ে নতুন দিনে দেখা হোক।‘
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news