চ্যানেল হিন্দুস্তান ব্যুরো।
পরিচয় শ্রমিকদের এককালীন ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার দুপুরে আচমকাই একটি টুইট করেন তিনি। সেখানেই পরিযায়ী ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের সমস্যার কথা তুলে ধরেই নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখেছেন, ‘‘অতিমারির জেরে চরম আর্থিক দুর্দশার মধ্যে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আমি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে, পরিযায়ী ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য যেন মাথা পিছু এককালীন ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পিএম কেয়ারসের একটি অংশও এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।’’ প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহে পরিযায়ী শ্রমিকরা ধীরে ধীরে নিজগৃহে ফেরা শুরু করেছেন। মত অবস্থায় তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো নয় বলেই নিজের টুইট মারফত বোঝাতে চেয়েছেন মমতা। কর্মহীন পরিচয় শ্রমিকদের আপাতত পরিত্রাণ দিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে আর্থিক সাহায্য দিতে বলেছেন তিনি।
People have been facing economic hardship of unimaginable proportions bcz of the ongoing pandemic. I appeal to Central Govt to transfer ₹10,000 each as one-time assistance to migrant labourers including people in unorganized sector. A portion of PM-CARES could be used for this.
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) June 3, 2020
এর আগে পরিযায়ী শ্রমিকদের সরাসরি টাকা দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলে নোবেলজয়া অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhijit Vinayak Bandyopadhya)। একই দাবি তুলেছিলেন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনও (Raghuram Rajan)। এ বার সেই দাবিই উঠে এল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে কিছুটা হলেও কৌশল দেখছে রাজনৈতিক মহল। কারণ পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিক স্পেশাল (Sharamik Special) ট্রেনের আগমন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “রাজ্যের শ্রমিক স্পেশাল না করোনা স্পেশাল আসছে।” এরপরই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি (BJP) সভাপতি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে বলে আক্রমণ শুরু করেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমোকে। সেই আক্রমণ থেকে বাঁচতেই পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrent Labours) আর্থিক সাহায্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগে এই একই দাবি করেছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী। তিনি অবশ্য পরিযায়ী শ্রমিকদেরদের জন্য এমন দাবি তোলেননি। রাহুল বলেছিলেন, “করোনা ভাইরাসের জেরে তৈরি হওয়া লকডাউন পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের আম জনতার ওপর। তাই দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে গরিব মানুষের হাতে টাকা দেওয়া দরকার। তাই দেশের সমস্ত মানুষের ব্যাংক একাউন্টে সাড়ে সাত হাজার টাকা করে দিক কেন্দ্রীয় সরকার।” রাহুল গাঁধীর (Rahul Gandhi) এমন দাবি অবশ্য মানতে চায়নি প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর সরকার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবিও যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মেনে নেবেন না, সে বিষয়ে নিশ্চিত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কারবারিরা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news