নীল রায়:
মমতা-বিমানের সৌজন্যেই কি বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান! মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যেই কি এখনও বিরোধী দলনেতার পদে বহাল রয়েছেন আব্দুল মান্নান!
এমন প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে। কংগ্রেসের অন্দরমহলেও আক্রমণের মুখে পড়েছেন মান্নান সাহেব। এমনকি বিরোধী দলনেতা রূপে তাঁর থেকে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁর সমালোচকরা। এহেন পরিস্থিতিতে উঠে আসছে তাঁর একরোখা মনোভাবের জেরে মানস ভূঞাঁর দলত্যাগের পর্বও। বির্তকিত প্রসঙ্গ আলোচিত হলেও নিজের অবস্থানে অনড় মান্নান সাহেব।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে ৪৪টি আসনে জয়ী হয়ে বিরোধী দল হিসেবে শুরু করা কংগ্রেসের কাছে এখন মাত্র ২৮ জন বিধায়কের সমর্থন। আর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় বিরোধী দল হতে গেলে কমপক্ষে ৩০ জন বিধায়কের প্রয়োজন। কিন্তু বাম বা কংগ্রেস, কারও কাছে এই “ম্যাজিক ফিগার” নেই। যদিও বিধানসভার পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। মান্নানের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের একাংশের আরও অভিযোগ, সরকারপক্ষের সঙ্গে “সুসম্পর্ক” বজায় রেখেই নিজের বিরোধী দলনেতার পদ বজায় রেখেছেন তিনি। এক্ষেত্রে মান্নানের বক্তব্য, বিধায়করা দল ছাড়লেও আইনগত ভাবে তাঁরা এখনও কংগ্রেসেরই বিধায়ক। তাঁরা যেদিন সকলে একযোগে বিধায়ক পদ ছাড়বেন, সেদিনই আমার বিরোধী দলনেতার পদ যেতে পারে। এমনকি হাত-ফুলের জোট হলে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলেও গুঞ্জন তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে। এমনকি আগামীদিনে যে কোনও স্তরে কংগ্রেস তৃণমূলের জোট হলে নিজেই ইস্তফা দেবেন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। সিপিএমের সঙ্গে জোটে চাঁপদানি থেকে বিধায়ক হয়ে তৃণমূলের দৌলতে বিরোধী দলনেতার পদ ধরে রাখা আব্দুল মান্নানের মতো ঝানু রাজনীতিকের পক্ষেই সম্ভব বলেই কংগ্রেসে মান্নান বিরোধীদের অভিমত। এমনটা করে একদিকে যেমন তিনি এআইসিসির কাছে নিজের বিরোধী ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন, তেমনই অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছ থেকে ঘুরপথে যাবতীয় সুযোগ সুবিধা আদায় করছেন। যদিও, মাঝে কয়েক বার বিদ্রোহ দেখিয়ে সরকারি গাড়ি ছেড়েছিলেন আব্দুল মান্নান। তবে স্পিকারের অনুরোধে তা ফিরিয়েও নিয়েছেন। তৃণমূল ও সিপিএমের সঙ্গে সমান তালে সুসম্পর্ক রেখে আব্দুল মান্নান বাংলার রাজনীতিতে একক অনন্য নজির গড়েছেন বলেই অভিমত রাজনৈতিক মহলের! একদিকে সেভ ডেমোক্রেসির ব্যানারে সিপিএম নেতাদের সঙ্গে মান্নানের আন্দোলন চোখে পড়ে। সুজন চক্রবর্তীর সঙ্গে বিধানসভায় ফ্লোর কো-অর্ডিনেশনেও তিনি সিদ্ধহস্ত । তেমনই আবার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের রসায়ন ভাল বলেই জানে বিধানসভার প্রশাসনিক মহল জানে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর ঘরে এসে খানিকক্ষণ আড্ডা দিয়ে গেছেন কয়েক মাস আগে। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীর প্রয়াণের সময় তো প্রকাশ্যেই এসেছিল মমতা-মান্নানের আপোসের কথা। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস নেতৃত্ব ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধন করেছিলেন প্রবীণ রাজনীতিক মান্নানই। তাই “সাপ ও ব্যাং” উভয়কেই ম্যানেজে পারদর্শী রাজনীতিক আব্দুল মান্নানই যে আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা থাকবেন, তা মেনে নিচ্ছেন রাজ্য রাজনীতির সব পক্ষই।
প্রশ্ন উঠছে সারধার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করে বারবার সুপ্রীম কোর্টে ছুটে যাওয়া মান্নান বহুদিন যাবৎ সারধা নিয়ে চুপ কেন? দু’একটা চিঠি, দু’একজন তৃণমূল নেতাকে তলব এবং একজন সাংবাদিককে (সারধা নয়, আইকোর) গ্রেফতার করা ছাড়া কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের কাজে উল্লেখযোগ্য গতি আনতে পারেনি এখনও। এমতাবস্থায় মান্নান কী আর একবার শীর্ষ আদালতের কড়া নেড়েছেন! উত্তর হল, না। তিনি আর সে মুখো হননি।
উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী হাই স্কুলের অঙ্কের মাষ্টারমশাইয়ের পাটীগণিত খাতায় তবে কী আর সাত দু’গুণে চোদ্দ হচ্ছে না! সুকুমারের কাকেশ্বরকে জিজ্ঞাসা করলে হয়ত বলবে, সময় তো পাল্টে গেছে। সময়ের দাম নেই বুঝি! মান্নানের খাতায় কী এখন সারধার ‘স’, সিপিআইএম-এর ‘ই’, রোজভ্যালির ‘র’, কংগ্রেসের ‘এ-কার’ আর বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ন’। সব মিলিয়ে সাইরেন! লাল বাতির সাইরেন। সাইরেনের মোঁহময় শব্দ ভেদ করে কী আর সারধায় সব হারানো মানুষের কান্নার আওয়াজ মান্নানের কানে ঢুকছে!
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news