দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রসেনজিত ধর।
মাধবী মুখোপাধ্যায়। বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অতি বিশিষ্ট নাম। একই সঙ্গে বিতর্কের জন্মদাত্রী হিসেবেও তাঁর নামডাক কম নেই। শিয়ালদহ স্টেশনের দক্ষিণ শাখার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যে সকল মহিলারা কলকাতায় কাজ করতে আসেন, তাঁদের নিয়ে মাধবীদেবীর করা অসম্মানজনক মন্তব্য একসময় রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিল। তখন তিনি কিছুদিনের সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে তৃণমূলে নাম লিখিয়ে ছিলেন। এছাড়াও সত্যজিত রায় থেকে মহানায়ক উত্তমকুমার, তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের নিশানা থেকে কেউই পার পাননি।
সম্প্রতি রাজনীতির খবরে আবার শিরোনাম হয়েছেন তিনি।
মূল ঘটনাটি এখন প্রায় সকলেরই জানা। তবু সংক্ষিপ্ত গৌরচন্দ্রিকার মত পূর্ব পাঠের পুনরালোচনা নিম্নে দেওয়া হল।
বঙ্গীয় চলচ্চিত্র পরিষদ নামে, সিনেমাপাড়ায় নতুন আত্মপ্রকাশ করা একটি সংস্থা। সম্প্রতি তাঁর কাছে যায় এবং দুঃস্থ শিল্পীদের সাহায্যার্থে তাঁরা কিছু করতে চায় বলে প্রবীন শিল্পীকে জানায়। মাধবীদেবীও এহেন কাজের সমর্থনে এগিয়ে এসে সংস্থার একটি কাগজে স্বাক্ষর করেন। অভিনেত্রীর কথা মত, এরপরেই এই খবর রটে যায় এবং তিনি বহু জায়গা থেকে টেলিফোন পেতে থাকেন। টেলিফোনে প্রায় সকলেরই একটাই প্রশ্ন, আপনি বিজেপিতে যোগ দিলেন? এরপরই কালবিলম্ব না করে মাধবীদেবী একটি বৈদ্যুতিন সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন এবং বলেন তাঁর সঙ্গে প্রতারনা করা হয়েছে। মাধবীদেবীর অভিযোগ, “আমাকে প্রতারণা করেছে বঙ্গীয় চলচ্চিত্র নামে একটি সংগঠন।”
বঙ্গীয় চলচ্চিত্র পরিষদ বা সংক্ষেপে বিসিপি। এই সংগঠনের দুই কর্ণধার, একজন শঙ্কুদেব পণ্ডা অন্যজন মিলন ভৌমিক। আত্মপক্ষ সমর্থনে তাঁদের বক্তব্য, বিসিপি আর বিজেপি এক নয়। বিসিপি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। ফলতঃ বিভ্রান্তি যদি কিছু হয়ে থাকে তাহলে তা উদ্ভুত হয়েছে ওই সব ফোন কল থেকে। যে সকল ফোন কলে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কিনা!
প্রকাশ্যে না বললেও বিসিপির অন্দরে একটি কথা ঘুরপাক খাচ্ছে, স্টুডিয়ো পাড়ার এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ‘অনুরোধে’ অবস্থান বদল করতে বাধ্য হয়েছেন সত্যজিতের চারুলতা। এই সংশয় আরও প্রগাঢ় হচ্ছে যখন মাধবী মুখোপাধ্যায়কে শোনা যাচ্ছে একটি রাজনৈতিক মন্তব্য করতে।
মাধবীদেবী বলেছেন, “আমি কোনও ভাবেই বিজেপির সঙ্গে যুক্ত নয়। টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়ার জন্য মমতার কাজে আমি ভীষণ খুশি।এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। এরপরেই মাধবীদেবী বলেন, “মমতা আদর্শ নিয়ে কাজ করে। আদর্শ মানে মুকুল রায়ের আদর্শ নয়। আজ এই দল কাল সুযোগ বুঝে আর একদল।” সরাসরি তৃণমূলের অবস্থান থেকে মাধবীর কথা বলা অনেকেই ভাল ভাবে দেখছেন না। দল বদলালে আদর্শচ্যুতি হয় কি হয় না তা এক কথায় বলা সম্ভব নয়। মাধবীর এই যুক্তি মেনে নিলে দেশের সদ্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অনেকেই এই ‘দোষে’ দুষ্ট। এমনকি যাঁর স্তুতি করেছেন মাধবী সেই মমতাও দল ছেড়েছেন আবার প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পুর্ন বিপরীত আদর্শের দুটি দলের সঙ্গে জোট বেঁধেছেন। মাধবীর রাজনৈতিক মন্তব্য অনেকে সিরিয়াসলি না নিতে চাইলেও, মাধবী তাঁর বক্তব্যে মুকুল রায়ের নাম টেনে আনায় অনেকেই মনে করছেন, এই কথা তিনি নিজে থেকে বলেননি। বরং তাঁকে বলানো হয়েছে।
টলিপাড়ায় গেরুয়া শিবিরের আরও একটি সংগঠন রয়েছে। ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পল ও বাবান ঘোষেদের ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স এন্ড কালচারাল কনফেডারেশন। মাধবী মুখোপাধ্যায় বঙ্গীয় চলচ্চিত্র পরিষদের বিরুদ্ধে প্রতারণার যে অভিযোগ করেছেন সেই বিষয়ে অগ্নিমিত্রা পলের প্রতিক্রিয়া, “মারাত্মক অভিযোগ। বিজেপির নাম করে কেউ যদি গিয়ে থাকেন তাহলে এটা ঠিক করেননি। আমি এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানাব। একজন শিল্পীর বাড়িতে গিয়ে ভুল বুঝিয়ে সই করিয়ে নেওয়া ঠিক নয়। এতে পার্টির বদনাম হচ্ছে।” এই সংগঠনের অন্যতম প্রধান সংগঠক বাবান ঘোষ বলেন, “বিশ্ব বাংলা, এটা তো রাজ্য সরকারের সংস্থা নয়। সাধারণ মানুষের। অথচ পশ্চিমবঙ্গ নামটা বড় বড় করে লেখা আছে। আবার মুখ্যমন্ত্রী সেই বিশ্ববাংলার অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন। তার মানে বিশ্ববাংলা রাজ্যে সরকারের। তেমন টলি পাড়ায় সংঠন খুলেছি আমরা ইস্ট্রান ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স এন্ড কালচারাল কনফেডারেশন। সেটা সমর্থন করেছেন রাজ্যের বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তার মানে বিজেপির একটাই সংগঠন টলিপাড়ায়। আর অন্য কোনও সংগঠনের নাম করে কেউ যদি কিছু করে থাকে তাহলে ওটা দলের অর্থাৎ বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য করছে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news