নীল রায়। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল তৃণমূল ভবনে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে পশ্চিম মেদিনীপুরের দুটি আসনের একটি জিতে নিয়েছে বিজেপি। অন্যটিতে তুল্যমূল্য লড়াই দিয়ে দ্বিতীয় স্থানেই থাকতে হয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। এমন অস্বস্তিকর ফলাফলের পর জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে মমতার বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গলমহলের মানুষের মন পেতে ২ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া থেকে শুরু করে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু গত বছর পঞ্চায়েত ভোটে বাংলার শাসক দলের লাগামহীন সন্ত্রাসের মধ্যেও জঙ্গলমহলের বেশকিছু ব্লকে ভালো ফল করে বিজেপি। তখন থেকেই শুরু হয় চিন্তার সূত্রপাত। এবারের লোকসভা ভোটে জঙ্গলমহলের ৬টি আসনের মধ্যে পাঁচটি জিতে নিয়েছে বিজেপি। এমনটা কেন হল ? তা জানতে ব্লক থেকে জেলা স্তরের সব নেতাদের বৈঠকে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে হাজির থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ নেতারা। মেদিনীপুর লোকসভা আসনে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী মানুষ ভূঁইয়াকে ৮৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে সংসদে গিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আবার ঘাটাল আসনে অভিনেতা দেব জিতলেও তাঁকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস তথা বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের কাছ থেকে। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা জঙ্গলমহলে যেভাবে সাংগঠনিক গতি বাড়িয়েছে বিজেপি তাতে আগামী বিধানসভা ভোটে শাসকদলকে সেখান থেকে মুছে দেওয়াই লক্ষ্য তাদের। বিজেপির সেই অপারেশন রুখতে মমতার বৈঠক যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, নদীয়া ও হুগলি জেলার সাংগঠনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী দলকে সেভাবে দিশা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। কারণ বৈঠক সেরে বেরিয়ে ওই দুই জেলার নেতারা দাবি করেছিলেন চেনা ছকে বাঁধা বক্তৃতা ও নির্দেশ দিয়েছেন দলনেত্রী। শক্তিশালী বিজেপির সঙ্গে মোকাবিলা করার নতুন কোন পথ বাতলে দেননি তিনি। তাই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বৈঠকে নতুন কিছু উঠে আসবে, এমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news