নীল রায়। শেষ দফা নির্বাচনের প্রায় আগে তৈরি করতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরাকে চিঠি লিখলেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নির্বাচন কমিশনারকে লেখা এই চিঠিতে বিজেপির নাম না করলেও, আখেরে তাঁর নিশানা যে গেরুয়া শিবির তা বোঝা গিয়েছে চিঠির ছত্রে ছত্রে। তিনি লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার তথা কেন্দ্রের শাসক দলের প্রভাবের জন্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একাধিক বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং পক্ষপাতিত্বে ভরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর ফলে রাজ্য সরকার এবং তার আধিকারিকদের তো বটেই, সাধারণ মানুষকেও নানা ভাবে হেনস্থা ও হামলার মুখে পড়তে হয়েছে।’ নির্বাচন কমিশনের তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন । চিঠিতে গত মঙ্গলবার বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি। সেই সঙ্গে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের রাজনৈতিক রেলি নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন মমতা।নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত কলকাতার পুলিশ কমিশনার ওইদিন কেন কলেজস্ট্রিটে ১৪৪ ধারা তুলে দিয়েছিলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দিদি। তিনি লিখেছেন, ‘রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যময় ভাবমূর্তি নষ্ট করতে, এই রাজ্যের মানুষ তথা সরকারেরমানহানির জন্যই সে দিন ইচ্ছাকৃত ভাবে রোড শোয়ের নামে এক অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।’
বিবেক দুবে ও অজয় নায়েকের নিযুক্তি নিয়েও কমিশনের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন, “নির্বাচন কমিশন দু’জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিককে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োগ করেছে, যা আইনানুগ নয়।” মমতার দাবি, “এই বিশেষ পর্যবেক্ষকেরা সব সময়েই পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার তথা কেন্দ্রের শাসক দলের নির্দেশই মেনে চলেছেন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, শেষ দফা ভোটের আগে তৃণমূল সুপ্রিমো যে কি পরিমান চাপে রয়েছেন তাই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর চিঠিতে। এ রাজ্যে মোদি শাহের দলের আসন বৃদ্ধি মানে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তাঁকে কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে পড়তে হবে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news