নীল রায়:
দলে কি আর ভাইপোর মাতব্বরি বরদাস্ত করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো? এমনই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে নিজের ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রটি নিজে জিততে পারলেও, দায়িত্বপ্রাপ্ত আসন গুলিতেই হার হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীদের। ২০১৪ সালে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হওয়ার পর ওই বছরই ১৭ অক্টোবর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য ও সর্বভারতীয় সভাপতি করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর কিছুদিন গেলে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলা সংগঠনের দেখভালের দায়িত্ব দেন তাঁর যুবা কাঁধে। গত পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের সন্ত্রাসের কাছে মাথা নোয়াতে হয়েছিল বিরোধীদের। তাতে ব্যতিক্রম ছিল না বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া। এবার এই দুই জেলার তিনটি লোকসভা আসনে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীদের। আর এই হারের দায় মুখ্যমন্ত্রীর সাংসদ ভাইপোর ওপরেই চাপাচ্ছে রাজনৈতিক মহল। কারণ ওই জেলাগুলির দায়িত্ব অভিষেকের হাতে থাকায় জেলা সভাপতিদের কোনও ভূমিকা ছিল না বলেই জানা গিয়েছে।
এমতাবস্থায় বাঁকুড়া সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও বিষ্ণুপুরের শ্যামল সাঁতরা এবং পুরুলিয়া আসনে মৃগাঙ্ক মাহাতো পরাজয়কে অনেকেই অভিযোগে পরাজয় বলে ধরছেন। বিষ্ণুপুরের নবনির্বাচিত বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ স্ত্রী সুজাতা আবার তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর দিকে। তিনি বলেছেন, “সৌমিত্র খাঁ বিষ্ণুপুর আসন থেকে একটি ভোটে জিতলে রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কবে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন তা জানালে খুশি হব।” বিরোধী শিবিরের এমন উক্তি চাপ বাড়িয়েছে তৃণমূল নেতৃত্বে। এদিন সন্ধ্যায় গণনা কেন্দ্র থেকে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে আসেন অভিষেক। কিন্তু তারপর আর তাকে বাইরে আসতে দেখা যায়নি দীর্ঘক্ষণ। এখানে প্রশ্ন উঠছে এমন ব্যর্থতার পর কি আর তার যুব নেতৃত্ব আস্থা রাখবেন মমতা?
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news