নীল রায়:
গুজব রুখতে যুগ্মভাবে পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরস্বতী পুজোর দিন সকালে মগরাহাটের বাণীবেড়িয়া বাজারে এক ব্যক্তিকে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি ঘটনা ঘটার পর নড়েচড়ে বসে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার আসার পর থেকে দেশে গণপিটুনির সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে, প্রায়শই এমন অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ মগরাহাট থানা এলাকায় ওড়িশার বাসিন্দা সৌমেন দাস নামে বছর ২৮-এর এক যুবককে ছেলেধরা সন্দেহে পাকড়াও করে স্থানীয় জনতা। পরে ব্যাপক গণপিটুনি দিলে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে ওই ব্যক্তি। তৎক্ষণাৎ মগরাহাট থানায় নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ছেলেধরা গুজবে গণপিটুনিতে মৃত্যুর খবর পুলিশ প্রশাসন মারফত খবর পৌঁছয় মুখ্যমন্ত্রী দফতরে। রাতে গুজব রুখতে যুগ্মভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে বারুইপুর জেলা পুলিশ ও তৃণমূল কংগ্রেস দু’পক্ষই। এদিন সন্ধ্যায় বারুইপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক মাধ্যমগুলি মারফত নিরীহ মানুষকে ছেলেধরা, কিডনি পাচারকারী অপহরণকারী ও দুষ্কৃতীর তকমা লাগিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এমন গুজবে কান দেবেন না। আর এলাকায় কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পেলে স্থানীয় থানায় খবর দিন। আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।
এদিন রাতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি দিয়ে এই একই অনুরোধ করা হয়েছে জনগণের উদ্দেশ্যে। যেখানে বলা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন করছেন গুজবে কান না দিয়ে সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে তা স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একাধিক কর্মসূচিতে প্রচার করা হচ্ছে, লোকসভা ভোট সামনে তাই বিজেপির পক্ষ থেকে নানা গুজব ছড়ানো হবে রাজ্যে অশান্তি তৈরি করতে। কিন্তু এদিন মগরাহাটের ঘটনা ঘটার পর কোনও রাজনৈতিক দলের দিকে আঙুল তোলার বদলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের সঙ্গে রাজনৈতিক ভাবে জনসচেতনতামূলক প্রচারকেই বেছে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও তার সাংসদ ভাইপো। দুজনের ছবি একসঙ্গে ব্যবহার করে সচেতনতার বার্তা প্রচার করা হচ্ছে জোরালোভাবে। যা এদিন সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা।
মগরাহাট থানা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় এলাকা ডায়মন্ড হারবারের অন্তর্গত। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ভাইপোর সংসদীয় এলাকায় একজন ভিন রাজ্যের মানুষের গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়েছে, এমন খবর প্রকাশ পেলে রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাই আগেভাগেই গুজবে গণপিটুনিতে সহ-নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা যাতে বাংলায় আর না ঘটে, সেদিকেই মনোনিবেশ করেছে প্রশাসন ও বাংলার শাসকদল। কারণ রাজস্থানে মালদহের বাসিন্দা আফরাজুলকে শম্ভুনাথ নামে এক কট্টর হিন্দুত্ববাদী যুবকের জীবন্ত জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনার পর, তা গোটা দেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। যা বিড়ম্বনার কারণ হয়েছিল বিজেপির। তেমন পরিস্থিতি যাতে পশ্চিমবঙ্গে না হয় সেদিকে নজর রেখেই জোর তৎপরতা দেখা যাচ্ছে রাজ্য প্রশাসনে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news