নীল রায়।
উপনির্বাচনে জয়ের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন ওই তিন কেন্দ্রে গিয়ে জনতাকে ধন্যবাদ জানাবেন। অপরদিকে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি রাজ্যের তিন নেতাকে ওই কেন্দ্রগুলিতে পাঠিয়ে হারার কারণ জানতে চাইবেন। দুই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা দিলীপ ঘোষ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে। লোকসভা ভোটে হারের পর সাময়িকভাবে কিছু বিরূপ মন্তব্য করলেও পরে বিষয়টি নিয়ে আর প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি তৃণমূল নেত্রী। রাজ্য থেকে ১৮টি আসনে জিতে অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিলেন বিজেপি সভাপতি। তাঁকে যারা কাছ থেকে চেনে তাদের বক্তব্য এমনটাই। কিন্তু মাত্র ছয় মাসের ব্যবধান প্রকট করেছে এই দুই নেতা-নেত্রীর নেতৃত্বের গুণগত ব্যবধান কতটা ব্যপক।
লোকসভা ভোটে হারের পর উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট রাজনীতি থেকে শুরু করে প্রার্থী চয়নে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে। অতি আত্মবিশ্বাসী দিলীপ ঘোষ এই ক্ষেত্রগুলিতে মার খেয়েছেন বলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। মাত্র দেড় বছর পর ভোট হবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। তাই প্রশান্ত কিশোরকে দিয়ে এখন থেকে ঘুটি সাজানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই কথা মাথায় রেখেই করিমপুর, কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুর সদর আসনে নিজে গিয়ে জনতার উদ্দেশে ধন্যবাদ জ্ঞাপন কর্মসূচিও তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। কারণ মুখ্যমন্ত্রী ভালই জানেন, এই দেড় বছরের সময়কালে সংগঠনগত ও উন্নয়নমূলক কাজ দেখিয়ে ধরে রাখতে হবে আমজনতাকে।
অপরদিকে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়ন্তন বসু ও সঞ্জয় সিংহেয়ের মত নেতাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে হারের ময়নাতদন্ত করবেন তিনি। নিজে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চাইছেন না তিনি। খড়গপুর সদর লোকসভার অধীন বিধানসভা হলেও সেখানেও পাঠানো হচ্ছে সায়ন্তন বসুকে। কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বিজেপি সভাপতি? এত বড় বিপর্যয়ের পর স্বয়ং কেন ময়দানে নেমে পরিস্থিতি সামাল দেবেন না দিলীপ ঘোষ? দলের অন্দরে উঠেছে এমনই সব প্রশ্ন।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news