সূর্য সরকার।
আলোচনা চলছিল গণপিটুনি বিল নিয়ে! বিধানসভায় নিজের আসনে দাড়িয়ে বক্তৃতা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণপিটুনি নিয়ে বলতে বলতে আচমকাই লাইন বদল করে বামেদের বিঁধলেন তিনি। কেন্দ্রের শাসক দলের জন্যই দেশে গণপিটুনির মত ভয়ঙ্কর জিনিসের বাড়বাড়ন্ত বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, “সবাইকে ডাকছে, কিন্তু সিপিএম-কে কেন ডাকছে না?” আর মুখ্যমন্ত্রীর এই কথার পরই বাম বিধায়কদের সঙ্গে তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয়ে যায় বিধানসভায়। মমতা আরও বলেন, “সারদা কাদের আমলে হয়েছিল? রোজভ্যালি কোন আমলের চিটফান্ড? সঞ্চয়িতা! চিদম্বরম, শরদ পাওয়ার—ওঁদেরকেও টার্গেট করছে। সারা দেশে সব বিরোধী রাজনৈতিক দল আক্রান্ত। সিপিএমের সঙ্গে বিজেপি-র বোঝাপড়া আছে। তাই ওদের ডাকছে না।” এমন সময়়় সুজন চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের ডাকবে কেন। আমরা তো চোর নই!”
ক্ষেপে গিয়ে হৈ হৈ করে ওঠেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী সহ অন্য বিধায়করা। পাল্টা হৈ চৈ শুরু করেন দেন শাসক দল তৃণমূলের বিধায়করাও। এসব বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী টেনে নিয়ে আসেন সারদা – রোজভ্যালি চিটফান্ডের কথা। বলেন , ” এসব চিটফান্ড বাম আমলে। সিপিএম দুর্নীতির ঠাকুরদা। তারপরেও যখন সারা দেশে অন্য সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের ভয় দেখানো হচ্ছে, আমাদের তো বাদই দিলাম। সেখানে বাম নেতাদের গায়ে কেউ হাত দেয়নি। বাম আমলে এই সব চিটফান্ড শুরু হয়েছে তাও তাদের কাউকে ডাকা হয়নি। ধরে ধরে তৃণমূলের লোকজনকে হেনস্থা করা হচ্ছে।” মমতা পরোক্ষে বিজেপি – সিপিএমের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন , ” আমরা সবাই হলাম দুয়োরানি , আর সিপিএম তো সুয়োরানী। তাই ওদের কিছুই করা হয়নি।”
গণপিটুনি বিলের আলোচনায় কেন চিটফান্ড প্রসঙ্গ আসবে সেটা নিয়ে বিরোধিতা শুরু করে দেন সুজন চক্রবর্তীরা। যদিও , পরে আবার অবস্থা সামলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ” আমি যা বলেছি তাতে কারও কোনও খারাপ লেগে থাকলে আমি দুঃখিত।” সুজনও তারপর পাল্টা অধ্যক্ষকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রীর বক্ত্যব কাটছাঁট করে রেকর্ড না রাখার দাবি তোলেন। বলেন, “কোনও আলোচনার মধ্যে অন্য ইস্যু চলে আসা কাম্য নয় মুখ্যমন্ত্রীর সেটা মনে রাখা উচিত ছিল।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news