নীল রায়। দল ছাড়ার পর তাঁর নাম আর কখনও মুখে আনেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবার কেবল তাঁকে গাদ্দার বলেই আক্রমণ করেছেন তিনি। বুধবার রাতে কালীঘাটে তড়িঘড়ি ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলনে মুকুল রায়ের নাম করেই তাকে আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন মমতা বলেন, “রাজীব কুমারকে কেন সরানো হল? টাকা পয়সার লেনদেন হচ্ছে সেগুলো ধরে ফেলবে বলে? মুকুল রায় আর বিজেপির কিছু চম্বলের ডাকাতদের কথায় নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বিধাননগরের কমিশনার, বারুইপুরের এসপি, গদ্দারের ছেলের এলাকা বীজপুরের আইসিকে সরানো হয়েছে কার কথায়? সব গদ্দারের কথায়।” রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের মন্তব্য থেকে স্পষ্ট মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় তৃণমূল থেকে গিয়ে যে কাজ করছেন, তাতেও তিনি খুশি নন। নিজের প্রাক্তন নেত্রীর এহেন আক্রমণের জবাব দিতে বেশি সময় নেননি মুকুলও। মমতার সাংবাদিক সম্মেলন শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলার রাজনীতির এই চাণক্য। মুকুল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমাণ করতে পারেন তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। কিন্তু উনি যদি নিজের অভিযোগ প্রমাণ না করতে পারেন তাহলে মুখ্যমন্ত্রীর চেহার ছাড়বেন তো!” মঙ্গলবার রাতে বিদ্যাসাগর কলেজে ঈশ্বরচন্দ্রের মূর্তি ভেঙে ফেলার অভিযোগ করা হয় বিজেপির কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। সেই দাবি খণ্ডন করে পাল্টা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলেন মুকুল। তিনি বলেন, “যাদের পাশে নিয়ে কাল রাতে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করছিলেন তারাই এই ঘটনার জন্য দায়ী। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কেবল বাংলারই নন, ভারতের নবজাগরণের বরেণ্য পুরুষ। ভারতীয় জনতা পার্টিকে মমতা ব্যানার্জির কাছে শিখতে হবে না ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সম্মান করার কথা।” মুকুলের আরও আক্রমণ, “বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ফেলার দায়ে বিজেপির ওপর চাপিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছেন এই ভোটের বাজারে। যা অত্যন্ত অনৈতিক বিষয় এবং লজ্জারও।”
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news