নীল রায়।
নানা সময় নানা ইস্যুতে কবিতা লিখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘দমকা হাওয়া’ নামে একটি কবিতা পোস্ট করেন তিনি। রাজ্যে বিজেপির তোলা হাওয়াকে ‘দমকা হাওয়া’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে দলবদলের হিড়িককেও ব্যঙ্গ করেছেন কবিতায়। মমতা লিখেছেন, ‘দমকা হাওয়া এল- যাদের হৃদয় বড়ো দুর্বল, তারা দমকা হাওয়ার শুরুতে গড়িয়ে পড়ল রাস্তায়।’ এই ‘দমকা হাওয়া’ স্থায়ী নয়। হটাৎই থেমে যাবে। তখন এই হওয়ায় ভাসা মানুষদের তিনি লিখেছেন, ‘ফুস! হাওয়া তো থেমেই গেলো। একটু না দেখেই এতো হুড়োহুড়ি।’ তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘প্রয়োজন? ছিল কি?’ সামগ্রীক পরিস্থিতিতে ‘ধৈর্য’ ও ‘অধৈর্য’র পার্থক্য বোঝাতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি হাওয়ায় ভাসা মানুষদের ‘মুখোশ’ নিয়েও কটাক্ষ করেছেন।
ঘটনাচক্রে মঙ্গলবার রাতেই জানা যায় বুধবার দুপুরে দিল্লিতে দিদির স্নেহের কানন (প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে এই নামেই ডাকতেন তিনি) বান্ধবী বৈশাখীকে নিয়ে যোগ দিতে চলেছে বিজেপিতে। রাজনৈতিক মহলের মতে সেই আভাস পেয়েই কবিতা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু এমন কবিতা নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন উঠছে, বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের সংস্কৃতি শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে বিরোধীদলের পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে বিধায়কদের দলবদল হয়ে উঠেছিল রোজনামচার ঘটনা।
২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে ৪৪ জন বিধায়ক নিয়ে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলের মর্যাদা অর্জন করা কংগ্রেস শিবির ভেঙে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে তৃণমূল। তিন বছরে তাদের বিধায়ক সংখ্যা নেমে এসেছে কিছু ২৭-এ। রক্ষা পায়নি বামফ্রন্টও। তাদের ঘরও নানা কৌশলে চুরমার করেছে শাসকদল। তাই প্রশ্ন উঠছে, পাল্টা দল ভাঙনের খেলা দিয়ে বিজেপি যখন তৃণমূলের ঘর ভাঙছে! তখন এমন নীতি-নৈতিকতার নিয়ে কবিতা লেখা কী মুখ্যমন্ত্রীর শোভা পায় ?
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news