নীল বণিক :
কয়েক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্য জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছিলেন ‘মুকুল চোর?’ সারদাকাণ্ডের পর যখন দেশ জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের সততা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে, মমতার এই উক্তি সেই সময়ের। তাঁর এই বিস্ময়াবিষ্ট প্রশ্ন সেদিন প্রমাণ করেছিল যে তিনি মনে করেন মুকুল রায় কোনও অসৎ কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন না। সাধারণত কোনও মুখ্যমন্ত্রীর মনে করার পিছনে শুধুমাত্র ধারণা থাকে না, পুলিশ তথা গোয়েম্দা বিভাগের তথ্যও থাকে। সেই সময় মুকুল রায় দলনেত্রী মমতার সবচেয়ে বিশ্বাসভাজন নেতা, যাঁকে তাঁর নিজের কথাতেই তিনি দিনে ‘পাঁচশবার ফোন’ করেন।
সেইসব দিন এখন অতীত। তৃণমূলের একনায়কতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও আরও কিছু বিষয়ের বিরোধিতা করে মুকুল এখন দল ছেড়েছেন। মমতাময় তৃণমূলে মমতার কর্তৃত্বের একাধিপত্যকেই নিরবে চ্যালেঞ্জ করেছেন মুকুল। মুকুুলের রাজনৈতিক অবস্থান বদলের সঙ্গে সঙ্গে, তাঁর সততার প্রশ্নেও কী মুখ্যমন্ত্রীর মত বদল হয়েছে! কয়েকবছর আগে ‘মুকুল চোর’ বলার সঙ্গে সঙ্গে যে বিরাট জিজ্ঞাসাচিহ্নটি ঝুলে থাকত মুখ্যমন্ত্রীর গলায়, সেটি কী খসে পড়ে গেছে! জিজ্ঞাসাচিহ্নের জায়গা দখল করেছে শক্ত সমর্থ দাঁড়ি চিহ্ন! মুখ্যমন্ত্রীর মনোভাব এই ব্যপারে এখনও লোকসমক্ষে প্রকাশ পায়নি, তবে তাঁরই দফতর মুকুলকে মামলা দিয়ে ঘিরে ফেলার এগিয়ে ফেলেছে অনেকটা। সূত্রের খবর, মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে মোট আঠাসটি কেস নিয়ে সিআইডি কর্তারা ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করেছেন। এমনকি এই কেসগুলি নিয়ে গোয়েন্দারা তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করেছেন বলেও পুলিশ সূত্রের খবর। মুকুল রায রেলমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীদের বিরুদ্ধে রেলে চাকরি দিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ উঠেছিল। বীজপুর থানাতে তাঁর এক অনুগামীর নামে লিখিত অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন চাকরি প্রার্থী। বীজপুর থানার সেই অভিযোগ নিয়ে এখন তদন্ত শুরু করছেন সিআইডির কর্তারা। বেশ কয়েকজন চাকরি প্রার্থীকে ভবনীভবনে ডেকে প্রাথমিক ভাবে কথা বলেছেন সিআইডির কর্তারা। উত্তর চব্বিশ পরগনার একটি চিটফান্ড কাণ্ডের সঙ্গেও উত্তর চব্বিশ পরগনার এক মুকুল অনুগামীর যোগাযোগ নিয়ে সিআইডির কর্তারা আসরে নেমেছেন। শুধু সিআইডির কর্তারা নন, আসরে কলকাতা পুলিশও। স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক পুলিশ কর্তার মতে, মুকুল রাযের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে কলকাতা পুলিশের কাছে। তার মধ্যে পাঁচটি কেস নিয়ে লালবাজারের কর্তারা আসরে নেমেছেন। মুকুলকে জব্দ করতে তাঁর অনুগামীরা ইতিমধ্যেই পুলিশের জালে। সবার আগে মুকুল অনুগামী পৃথ্বীশ দাশগুপ্তকে চলতি মাসে উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে গ্রেফতার করে সিআইডি। এরপর বুধবার মুকুল রায়ের ছায়াসঙ্গী সুজিত শ্যামের বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এই ঘটনা গুলিই প্রমান করছে মুকুলকে জালে টানতে কতটা তৎপর নবান্ন।
সব দেখেশুনে তৃণমূলেরই এক রসিক নেতা সুকুমার রায়ের হযবরল-র রেফারেন্স টানছেন। বলছেন, এ যেন কাকেশ্বরের হিসেব। সময় পাল্টালে হিসেবও পাল্টায়!
বিভিন্ন বিষয়ে ভিডিয়ো পেতে চ্যানেল হিন্দুস্তানের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন
https://www.youtube.com/channelhindustan
https://www.facebook.com/channelhindustan
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news