দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার জোড়া আক্রমণ মুকুল রায়ের।
পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে ভারতের জঙ্গি নিধনের সংবাদে মমতা যেভাবে সংশয় প্রকাশ করেছেন, তাতে ঘুরপথে মমতাকে দেশদ্রোহী বলেছেন মুকুল। বলেছেন, মমতা কোন পক্ষে থাকতে চাইছেন, ভারত না পাকিস্তান তা ওঁকেই স্পষ্ট করতে হবে। তথ্যাভিজ্ঞ মহল ইতিমধ্যেই বলেছে, ড্রোন থেকে তোলা ছবি সময় এলেই প্রকাশ করা হবে। এখনই তা প্রকাশ করে দিলে দেশের তথা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তার জন্যে তা বিপজ্জনক হতে পারে। তবু রাহুল-মমতার মতো রাজনীতিকরা নাছোড়বান্দা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে পুলওয়ামা ট্র্যাজেডির পর জঙ্গি দমনে মোদি সরকার যে সদর্থক ও সাহসী ভূমিকা গ্রহন করেছে তা দেখে ঠিক যতটাই ভরসা পেয়েছে সিংহভাগ দেশবাসী, ঠিক ততটাই হতাশ হয়েছে বিরোধীরা। বিশেষ করে ৭ নম্বর আরসিআরের দিকে তাকিয়ে থাকা রাহুল ও মমতার মাথার ওপর বাজ ভেঙে পড়েছে। সর্বভারতীয় রাজনীতির হাঁড়ির খবর রাখা বেশ কয়েকটি মহলের মতে, গত পাঁচ বছরে কড়া হাতে সংস্কারের কাজ করেছেন মোদি। জনমোহিনী সস্তা রাজনীতির পথে না হেঁটে বেশ কিছু এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যা আপাতভাবে সাধারণ মানুষের কাছে অপ্রিয়। আর এটাকেই সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর আসনের দিকে দৌড় লাগিয়ে ছিলেন রাহুল-মমতারা। পুলওয়ামা কাণ্ড এবং তারই ফলশ্রুতি হিসেবে ভারতের বিমানহানা ও তারপর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে পাকসেনার হাতে ধৃত কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে সসম্মানে ঘরে ফিরিয়ে আনা, সবকটি বিষয়ই মোদি সরকারের ভাবমূর্তি জনমানসে উজ্জ্বল করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষদের একাংশ মনে করছেন, পরপর এইসব গুলো ঘটনাই দেশের বেশিরভাগ বিরোধী দলগুলির কাছে সার্জিকাল স্ট্রাইকের সমান! বিরেধীরা যখন মনে করছিল বা তাদেরই ‘পেটোয়া ও তাদের কর্তৃক পুষ্ট কয়েকটি মহল’ যখন তাদের মনে করাচ্ছিল যে ভোটের খেতে তাদের ধান পেকেছে ঠিক সেই সময় তাদের পাকা ধানে মই দিল উপর্যুপরি এই ঘটনাপ্রবাহ। ফলতঃ ‘দৃশ্যতঃ হতাশ আর কার্যত দিশাহীন’ মমতা এখন মরিয়া হয়ে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলস্বরুপ ভোট-মরিয়া মমতা এমন মন্তব্য করছেন বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন।
গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো, কয়েকদিন আগে করা মমতার একটি মন্তব্যের,শুক্রবার প্রতিক্রিয়া দেন মুকুল। সম্প্রতি নজরুল মঞ্চে হয়ে গেল তৃণমূলের বৈঠক। সেখানে মমতা মন্তব্য করেছেন, ২৩ থেকে ২৪ আসনে ইভিএমে ব্যাপক কারচুপি করবে বিজেপি। মমতার এ হেন মন্তব্যের পর নয়াদিল্লিতে এবং পরে কলকাতায় কয়েকটি কাজে ব্যস্ত থাকার ফলে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারেননি মুকুল রায়। শুক্রবার তিনি বলেন, “মমতার এই মন্তব্য প্রমান করে ভোটের আগেই তিনি হেরে বসে আছেন।” এমনিতেই সেদিনের বৈঠকের পর তৃণমূল পরিবারের আর বুঝতে বাকি নেই যে এখন মমতার একমাত্র মাথাব্যথা মুকুল রায়। দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠছে যে নেত্রী কেন ২৩-২৪ টি আসনের কথা বললেন? সংখ্যাটা ২০ বা ২৫ কেন নয়? মনে রাখতে হবে মুকুল ইতিমধ্যেই বলেছেন যে তৃণমূলের আসনসংখ্যা কুড়ির নিচে চলে আসবে লোকসভা নির্বাচনে। তার মানে বিজেপির কমবেশি ২৩ বা ২৪ আসনই হয়।
মুকুল ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, একসময় সিপিএমের সঙ্গে ভোট লড়াইতে এঁটে উঠতে না পেরে মমতা ব্যালটের বদলে ইভিএম চাইতেন। এখন যখন ক্ষমতায় এসেছেন, প্রশাসনকে পকেটে পুরেছেন তখন ঠিক বামেদের কায়দাতেই ভোট করানোর জন্য ব্যলটপেপারের দাবি করছেন।
যাই হোক, ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি আপাতত সামলে গেলেও, এমন বসম্ত-বর্ষার ভেজা বাতাসেও আগুন ধরাচ্ছে মুকুল-মমতা দ্বৈরথ।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news