নিজস্ব সংবাদদাতা:
বখাটে ছেলেদের তৃণমূলে চাকরি দেওয়ার থেকে, ঠেকবাজির মুক্তাঞ্চল পাড়ার ক্লাবগুলোকে টাকা দেওয়ার চেয়ে জল সচেতনতার মতো সামাজিক আন্দোলনে যে শিক্ষিত আধুনিক মানুষের আগ্রহ বেশি, শেষ পর্যন্ত সেকথা বুঝলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আজকের মহৎ পদযাত্রার আড়ালে প্রশান্ত কিশোর থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এইসঙ্গে জলের মতো পরিস্কার—যাঁকে তিনি ঘোষিতভাবে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করেন, সেই নরেন্দ্র মোদিকে শুক্রবার অনুকরণ করলেন মমতা।
সামাজিক প্রকল্পই যে সর্বার্থে লাভজনক রাজনৈতিক প্রকল্প, তা একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে তা যেমন দেশ দশের সেবায় লাগে, তেমনি প্রতিষ্ঠা দেয় নেতাকে। স্বচ্ছ ভারত, নওমি গঙ্গার মতো প্রকল্প তারই উদাহরণ। প্রসঙ্গত, জল সঞ্চয়ের যে সচেতনার কথা সামনে রেখে মমতা আজ পথে নামলেন, তাও আগেভাগে করা হয়ে গেছে মোদির। অতএব, মমতা এদিন মোদিকে সরাসরি অনুকরণ করলেন।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন জল বাঁচাও দিবসের। প্রতি বছর ১২ জুলাই এই দিনটি পালন করা হবে। যদিও পুরনো জল ধর, জল ভর কর্মসূচি রয়েছে সরকারের।
এদিকে মমতার আজকের পদযাত্রায় দুর্ভোগের শিকার হল শহরবাসী। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে রাস্তার একটা অংশ আটকে তৈরি করা হয়েছিল মঞ্চ। এইসঙ্গে কর্মসূচি শুরুর অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয় বহু রাস্তা। যেমন, গিরিশ পার্ক থেকে কলকাতামুখী সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ রোড বন্ধ করে দেওয়া হয়। গিরিশ পার্ক থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। কলকাতাগামী গাড়িগুলোকে বিবেকানন্দ রোডে দিয়ে ঘুরিয়ে ধর্মতলা পাঠানো হচ্ছিল। যদিও ধর্মতলা থেকে শোভাবাজারগামী সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ রোডটি চালু রাখা হয়।
সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর জল সচেতনতায় শহরের বড় অংশজুড়ে জ্যাম এখন। যা রাত অবধি চলবে। বাস-ট্রাম-ট্রেনে নাভিশ্বাস উঠবে অ-ভিআইপি মানুষগুলোর। গরমে, হেনস্থায় সকলের তেষ্ঠা পাবে। জল খুঁজবে সবাই! তবু, এতদিন সমাজ আর রাজনীতির সেতুবন্ধনে সক্ষম হলেন মমতা।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news