দেবক বন্দ্যোপাধ্যায়:
তথাকথিত ঐতিহাসিক ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী মোদিকে সমঝোতার বার্তা দিলেন!
এই বেয়াড়া সংশয়টি জায়গা করে নিচ্ছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মনে আর এমন সংশয় যাঁর সৌজন্যে ভেসে উঠছে তিনি আর অন্য কেউ নন, মমতা স্বয়ং।
ব্রিগেড মঞ্চে মমতা মোদিকে আক্রমণ করেছেন একথা ঠিক। তিনি বলেছেন, চোরের মায়ের বড় গলা, বলেছেন, জনধন যোজনা একটি বড় কেলেঙ্কারি, জীবনবিমা বড় কেলেঙ্কারি, রাফায়েল বড় কেলেঙ্কারি ইত্যাদি। নিজস্ব কায়দায় চড়া মেজাজের কথার স্রোতের মধ্যেই মমতা কী ঢুকিয়ে দিয়েছেন সমঝোতার নরম বাণী! এই প্রশ্ন উঠছে। কারন আক্রমণাত্মক ঝাঁঝাল বক্তব্য পেশ করতে করতে একই নিশ্বাসে মমতা বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না। এটা আমার কালচার নয়।’ তারপরেই বক্তৃতার সেই বিতর্কিত অংশ যেখানে তিনি বলছেন, ‘আপনি (মোদি) কাউকে ছাড়েননি। সনিয়াজিকে ছাড়েননি, কেজরিবালকে ছাড়েননি, আমাকেও ছাড়েননি, লালুজিকে ছাড়েননি, সবাই কেন আপনাকে ছাড়বে?’ মমতার এ হেন বক্তব্য সেদিনই বেজেছে সচেতন কানে। প্রশ্ন উঠেছে ঠিক কি বলতে চাইছেন মমতা? প্রভাবশালী মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাকে ছেড়ে দেওয়াই কি রাজনীতির অলিখিত দস্তুর? নাকি যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে দিল্লির বিজেপি মহলে কানাঘুষো হয় তিনি বিজেপি নেতাদের ফিলার (এক্ষেত্রে সমঝোতার গোপন বার্তা) পাঠান, সেই মমতাই এদিন খুল্লামখুল্লা সমঝোতার বার্তা দিলেন মোদিকে? এমনকি রাম-রাজনীতির কুশীলবদের এদিন লক্ষণ রেখাও দেখিয়েছেন মমতা। বলেছেন, সব কিছুর একটা লক্ষণ রেখা থাকা উচিত। প্রশ্ন উঠছে, এ কেমন তত্ত্ব মমতার? দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে, বড় কোনও কেলেঙ্কারি হলে চুনোপুটিরা শাস্তি পাবে আর রাঘব বোয়ালদের ছোঁয়া যাবে না, এমন সরকার, এমন প্রশাসনই কি আদর্শ মমতার কাছে?
ব্রিগেডে বাংলা হিন্দি মেশানো দীর্ঘ বক্তৃতায় বেশির ভাগ সময় আক্রমণের সুর ধ’রে রেখেছিলেন মমতা। ‘বিজেপি যাবে, দেশ বাঁচবে’, ‘আসবে না আর আচ্ছে দিন, বিজেপিকে শূন্য দিন’ এই ধরনের কথামালায় ভ’রে ছিল তাঁর ভাষণ। তবে ব্রিগেডে মমতা যেন একা ছিলেন না! এক মমতার মধ্য থেকে একাধিকবার বেরিয়ে আসছিলেন আর এক মমতা! সেই মমতা কে? ঠিক কি চান তিনি? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতির পর্যবেক্ষক মহলে।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news