নীল রায়। একে জেলা সভাপতি, অন্যদিকে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী। তা সত্ত্বেও হারতে হয়েছে হুগলি লোকসভা আসনে। আর সেই কারণে শনিবার কালীঘাটের অভ্যন্তরীণ বৈঠকের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরম ভৎসনার মুখে পড়েছেন হুগলি জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত। হুগলি জেলায় তিনটি লোকসভা আসনের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে দু’বারের তৃণমূল সাংসদ রত্না দে নাগকে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য সংসদে পা রেখেছেন বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। ৭৩,৪০২ ভোটে তৃণমূলের চিকিৎসক প্রার্থীকে কুপোকাত করেছেন টলিউডের অভিনেত্রী রাজনীতিক। ওই ওই লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মন্ত্রীর বিধানসভা সপ্তগ্রাম থেকে ২১ হাজার ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। এমনকি যে সিঙ্গুর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক উত্থান, বা বলা ভালো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফিনিক্স পাখির মতো ফিরে আসা। তপন দাসগুপ্তর নেতৃত্বে সেই সিঙ্গুর মুখ ফিরিয়েছে জোড়া ফুলের থেকে। সিঙ্গুর থেকে ১০,৬৭০ ভোটের ব্যবধানে পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থী লকেট। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে আরামবাগ থেকে তিন লক্ষ ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী অপরুপা পোদ্দার। হুগলি জেলার অন্তর্গত আরামবাগ লোকসভাতে জয় পেতে তৃণমূল কংগ্রেসকে অপেক্ষা করতে হয়েছে শেষ রাউন্ডের শেষ ইভিএম পর্যন্ত। লোকসভা ভোটে ১১৪৪ ভোটে কোনওরকমে নিজের আসন ধরে রেখেছেন নারদা ঘুষ কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত অপরূপা পোদ্দার। যা একটি লোকসভা নির্বাচনে জয়ের ক্ষেত্রে কোন ব্যবধানই নয় বলেই মনে করছে ভোট বিশেষজ্ঞরা। হুগলি জেলার একমাত্র আসন শ্রীরামপুর যেখানে ভালো ব্যবধানেই জিতেছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে হাওড়া জেলার দুই বিধানসভা ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুর। তাই স্বাভাবিকভাবেই নেত্রীর চক্ষুশূল হয়েছেন তপন দাশগুপ্ত। আগামী ৩১ মে আবারও কালীঘাটে দলের নেতা মন্ত্রী সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। মনে করা হচ্ছে সেখানেই তপন দাশগুপ্তের ওপর নেমে আসতে পারে শাস্তির খাড়া। জেলা সভাপতি কিংবা মন্ত্রী পদ দুইয়ের মধ্যে যেতে পারে যে কোনও একটি।
Channel Hindustan Channel Hindustan is Bengal’s popular online news portal which offers the latest news